সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। তার সঙ্গে মিশেছে দু’হাতা ড্রামা এবং বেশ কয়েক চামচ অ্যাকশন। এবং অবশ্যই টানটান পারফর্মেন্স। হুম কুরেশি অভিনীত ‘বেবি ডু ডাই ডু’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। ‘বেবি ডু ডাই ডু’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন নাচিকেত সামন্ত এবং প্রযোজনা করেছেন হুমা কুরেশি এবং তাঁর ভাই সাকিব সেলিম। পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনার ভার-ও আংশিক নিয়েছেন পরিচালক নাচিকেত সামন্ত। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন জসমীত কৌর রিন, নাচিকেত সামন্ত ও পারভেজ শেখ। সিকান্দর খের, চাঙ্কি পান্ডে এবং অন্যান্যদের অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি একজন বধির ও মূক গুপ্তঘাতকের গল্প বলে। যদিও নারীশক্তির কথা বললে নির্মাতারা এই ছবিকে নারীকেন্দ্রিক ছবি বলতে নারাজ। সম্প্রতি, বক্স অফিসে ছবির সাড়া পেয়ে গোটা দেশজুড়ে এ ছবির আরও জোরদার প্রচার শুরু করেছেন হুমা এবং সাকিব। এদিন কলকাতায় তাঁদের মুখোমুখি হল আজকাল ডট ইন।

ঘড়ির কাঁটা বলছে রবিবারের দুপুর। তবে আকাশের দিকে তাকিয়ে তা ঠাওর করার অবস্তাহয় নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে চাপ চাপ কালো মেঘ, সঙ্গে গুমোট গরম। এহেন আবহে দক্ষিণ কলকাতার একটি রেস্তরাঁর কাচের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়েলন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি এবং তাঁর ভাই তথা বলি অভিনেতা সাকিব সেলিম। দু'জনের পরনেই ঢিলেঢোলা পোশাক। অল ব্ল্যাক। ভাই-বোন হাত ধরাধরি করে ঢুকলেন তারপর জমিয়ে লাউঞ্জের একটি নরম সোফা ভাগাভাগি করে বসলেন। গুছোনো, ছোট্ট শীততপনিয়ন্ত্রিত ঘর। বিলাসিতার প্রাচুর্য না থাকলেও ছিমছাম। সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাংবাদিকেরা এবং চিত্রসাংবাদিকেরা। আড্ডার মেজাজে শুরু হল সাংবাদিক বৈঠক।
বৈঠক শুরুই করলেন হুমা-সাকিব আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নের জবাব দিয়ে। ছবি যেহেতু সদ্যমুক্তি পেয়েছে তাই গল্প ফাঁস না করেই হুমা জানান, এই ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি মূক ও বধির অথচ মারপিটে সিদ্ধহস্ত। পেশাদার খুনি। সবমিলিয়ে এমন লেয়ার্ড চরিত্র কেরিয়ারে এর আগে পাননি হুমা। তিনি নিজেও পরপর ছবিতে এক ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের পরিপন্থী। তাই একধারে যেমন তিনি মহারানি-র মতো টানটান রাজনৈতিক-থ্রিলার ওয়েব সিরিজের প্রধান মুখ হয়েছে অন্যদিকে টক্সিক-এর মতো অ্যাকশন ভরপুর দক্ষিণী ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঠিক সেই নিয়ম মেনেই তিনি এই ছবির অংশ। কথার মাঝে পাশ থেকে হাসতে হাসতে সাকিব বলে উঠলেন, " এ ছবিতে অ্যাকশন দৃশ্য নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি পরিশ্রম করেননি হুমা। কারণ ও ছোট থেকেই আমার উপর এত অত্যাচার করেছে, এত মেরেছে আমাকে...” ভাইয়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই হাসিতে ফেটে পড়ে হাত নাড়িয়ে ততক্ষণে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে দিয়েছেন হুমা।
এই ‘প্রতিবাদ’-এর প্রসঙ্গ উঠতেই সাকিব বললেন এই ছবিকে নারীকেন্দ্রিক ছবির ট্যাগ দিতে নারাজ তাঁরা। টানটান একটি গল্প যার অন্যতম প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন একজন নারী -ব্যাপারটা এইভাবে ভাবা যেতে পারে। আর এই ছবিতে একজন ডিস্কো ডান্সার হিসেবে একটি আইটেম সং-এ পারফর্মও করেছেন তিনি। অভিনেতার কথায়, “ওই ব্যক্তির নাম আলফা কিউ। আমাদের হিসেবে পরিষ্কার ছিল, কোনও পুরুষ 'আলফা' হলেই তাঁকে কি বড়সড় কাণ্ড করতেই হবে? আর মেয়েরাই কেন শুধু আইটেম ডান্স-এ নাচবেন? এইসব ভাবনা চিন্তা থেকেই আলফ কিউ-এর মতো একটা বোহেমিয়ান, মজাদার চরিত্রের জন্ম।” আজকাল ডট ইন-এর তরফে জিজ্ঞেস করে হয়েছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভাবনায় কুঠারাঘাত করতেই কি এই পদক্ষেপ? শুনেই দুষ্টু হেসে হুমার জবাব, “ওহ হো, আমরা তো কলকাতাতে। আর কলকাতা তো ‘প্রতিবাদ’ বিষয়টাই ভীষণ পছন্দ করে। ঠিক, ঠিক। এই শুনুন আমিও কিন্তু প্রতিবাদী একজন মানুষ। প্রতিবাদ বিষয়টাতে আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি!”
আড্ডা যখন মাঝগগনে, তখন ক্যামেরার শাটারের শব্দে গমগম করছে রেস্তরাঁ। এর মাঝেই তারকাদের অর্ডার দেওয়া ঠান্ডা পানীয় টেবিলে সার্ভ করতে আসেন রেস্তরাঁর এক যুবক কর্মী। কিন্তু টেবিলে গ্লাস রাখার সময় তিনি অজান্তেই ছবিশিকারিদের ক্যামেরার ‘ফ্রেমে’ ঢুকে পড়েন। আর যায় কোথায়! রে-রে করে ওঠেন ছবিশিকারিরা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ঠান্ডা করলেন ভাই-বোন। বলে উঠলেন, “দাদারা, একটু ঠান্ডা হন। ওকে এভাবে বকবেন না। বেচারার কোনও দোষ নেই। আমরা কোথাও যাচ্ছি না। প্রচুর ফুটেজ পেয়ে যাবেন। ভাই তুমি শরবতটা দিয়ে যাও তো...” রেস্তরাঁকর্মীর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেলেও ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি।
আড্ডার একেবারে শেষলগ্নে এসে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হুমা কুরেশি – “একটা কথা বলব। একটু লিখবেন প্লিজ? এই ছবিটি কিন্তু আমরা খুব কষ্ট করে তৈরি করেছি। বাজেট নিয়ে টানাটানি হয়েছে তাই প্রচারে প্রায় কিছুই খরচ করতে পারিনি। একবিন্দু বাড়িয়ে বলছি না। টাকা সেভাবে না ঢালতে পারলেও আমাদের আবেগটা কিন্তু খাঁটি। ছবিটি ভীষণ যত্ন করে তৈরি করেছি। সেক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করিনি কিছু। আর এই প্রথমবার পর্দায় ভাই-বোন একসঙ্গে কাজ করলাম। তাই আমাদের দু’জনের কাছেও ভীষণ স্পেশ্যাল...কলকাতার মানুষ খুব আবেগপ্রবণ। আজ এই শহরে পা দিয়েই আপনাদের ভবানীপুরের একটি মাল্টিপ্লেক্সে গিয়েছিলাম ‘বেবি ডু ডাই ডু’ শো-এর শেষে। যেভাবে আমাদের ওঁরা গ্রহণ করলেন, সত্যিই বলছি আমরা কৃতজ্ঞ। কলকাতা, তোমাকে আমরা ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি...”















