২০২৩ সালের ঘটনাটা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ ব়্যাগিংয়ের শিকার হয় এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যা করে। সেই মামলার জল বহুদূর গড়ায়। প্রতিবাদে নামে কলেজের ছাত্র থেকে নাগরিক সমাজ। সেই ঘটনার বছর আড়াই ঘুরতে না ঘুরতেই সেই স্মৃতি টাটকা করে এবার তা উঠে আসবে বড়পর্দায়। পরিচালনায় রাজ চক্রবর্তী। 

 


ছবির টিজার অথবা ট্রেলারে কোথাও যাদবপুরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।জ চক্রবর্তীর নতুন ছবি ‘হোক কলরব’-এর গল্প অনেকটা এরকম - কলকাতার বুকে প্রতিষ্ঠিত এক বিশ্ববিদ্যালয়। নিরাপত্তা, মর্যাদা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে সেখানে পা রাখে এক ফ্রেশার। কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক ভয়ংকর বাস্তব। নির্মম ব়্যাগিংয়ের জেরে মৃত্যু আর তার পর থেকেই একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। 

 

 

ছবির ট্রেলার শুরু হতেই দর্শক বুঝে যান, এটি আর পাঁচটা তদন্তভিত্তিক ছবি নয়। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ক্যাম্পাস হিংসা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা সত্য। শহরের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে এক ছাত্রের মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলেও, ঘটনার নেপথ্যে যে আরও গভীর অন্ধকার লুকিয়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয় তদন্ত এগোতেই।

 

এই মামলার দায়িত্ব পান এসিপি ক্ষুদিরাম চাকি, যে চরিত্রে রয়েছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ট্রেলারে তাঁর উপস্থিতি নিঃশব্দ অথচ তীক্ষ্ণ। প্রশ্ন করার ভঙ্গি, সন্দেহের চোখ, আর সত্যের পিছনে অবিচল থাকার দৃঢ়তা সব মিলিয়ে এই চরিত্র ছবির মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। তদন্ত যত এগোয়, ততই ভাঙতে থাকে ‘ঠিক’ আর ‘ভুল’-এর পরিচিত সংজ্ঞা।

 

‘হোক কলরব’-এ অভিনয় করেছেন ওম সাহানি, রোহন ভট্টাচার্য, জন ভট্টাচার্য, পার্থ ভৌমিক, পুষাণ দাশগুপ্ত, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, দেবদত্তা রাহা, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়-সহ একঝাঁক শক্তিশালী অভিনেতা। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন রাজ চক্রবর্তীর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা, গর্বের সঙ্গে উপস্থাপনায় শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।

 

ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন সৌভিক ভট্টাচার্য, ক্যামেরায় মানস গঙ্গোপাধ্যায়। সংগীতে অমিত চট্টোপাধ্যায়, দোলন মৈনাক ও ঈশান মিত্র, আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরেও রয়েছে অমিত চট্টোপাধ্যায়ের ছাপ, যা ট্রেলারেই গল্পের টানটান আবহ তৈরি করে।

 

সব মিলিয়ে ‘হোক কলরব’ শুধুই একটি থ্রিলার নয়। এটি প্রশ্ন তোলে সমাজের দিকে, শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতরের অন্ধকার কোণগুলোর দিকে। আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি যা দর্শককে শুধু বিনোদন নয়, অস্বস্তিকর ভাবনার মুখোমুখিও দাঁড় করাবে।