এক সময়ের বলিউডের পরিচিত মুখ ছিল অভিনেত্রী রিমি সেন। বছর ২৫ আগে নিজের কেরিয়ারের শুরুতেই ‘হাঙ্গামা’, ‘ধুম’, ‘গোলমাল’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘জনি গদ্দার’-এ র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করে দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড়পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে। ধীরে ধীরে লাইমলাইট থেকে সরে যান অভিনেত্রী। আর এখন, দীর্ঘ বিরতির পর একেবারে ভিন্ন কারণে ফের শিরোনামে রিমি সেন। এই মুহূর্তে তিনি দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট দুনিয়ার পরিচিত নাম এক সময়ের বলিপাড়ার এই চর্চিত অভিনেত্রী।
বর্তমানে দুবাইয়ে একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন রিমি সেন। সম্প্রতি বিল্ডক্যাপস রিয়েল এস্টেট এলএলসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন, কীভাবে দুবাই তাঁকে আপন করে নিয়েছে এবং কীভাবে এই প্রতিযোগিতামূলক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
রিমির কথায়, “দুবাই ভীষণভাবে ওয়েলকামিং। এখানকার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই প্রবাসী, বাকিরা এমিরাতি। তবুও শহরটা সবাইকে সমানভাবে গ্রহণ করে। এখানে যেমন মসজিদ আছে, তেমনই মন্দিরও আছে। সবাইকে মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়। মূল লক্ষ্য একটাই, মানুষের জীবন কীভাবে আরও সহজ, স্বচ্ছন্দ আর আরামদায়ক করা যায়।”
এই প্রসঙ্গেই ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে অভিনেত্রীর মন্তব্য, “আমাদের দেশে প্রায় রাতারাতি নীতি বদলে যায়। তার ফলে মানুষের জীবন আরও জটিল হয়ে ওঠে। হাজার রকমের কর, অসংখ্য নিয়ম-কানুন এখন আর ব্যবসার পক্ষে খুব একটা সহায়ক পরিবেশ নেই।”
দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশংসা করেছেন রিমি। তাঁর কথায়, “এখানে সিস্টেমটা খুব পরিষ্কার। ডেভেলপাররা তাঁদের কাজ করেন, এজেন্সিগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করে। আপনি শুধু অনুমোদিত এজেন্ট আর সংস্থার মাধ্যমেই কাজ করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটাই ডিসিপ্লিনের মধ্যে চলে।”
ভারত ও দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও তুলে ধরেছেন তিনি। রিমি বলেন, “দুবাইয়ে এজেন্টদের ফিনান্সিয়াল কনসালট্যান্টের মতো সম্মান দেওয়া হয়। অথচ ভারতে দু’মাসের ব্রোকারেজ চাইলে মানুষ এমন চোখে তাকায়, যেন কোনও অপরাধ করে ফেলেছেন।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, শো-বিজ ছাড়ার কয়েক বছর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ছবির জেরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন রিমি সেন। তাঁর চেহারা দেখে নেটিজেনদের একাংশ প্লাস্টিক সার্জারির জল্পনা শুরু করেন। যদিও সেই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রিমি স্পষ্ট জানান, “মানুষ যদি ভাবে আমি প্লাস্টিক সার্জারি করেছি আর সেটা যদি ভালভাবে নেয়, তাহলে আমারই ভাল। বাস্তবে আমি শুধু ফিলার, বোটক্স আর পিআরপি ট্রিটমেন্ট করিয়েছি, এর বাইরে কিছুই নয়।”
ট্রোলদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সাফ জবাব, “হয়তো আমার সাম্প্রতিক ছবিতে ত্বক ভাল দেখাচ্ছে বলেই এত কথা হচ্ছে। ঠিকমতো ট্রিটমেন্ট আর নিয়ম মেনে চললে যে কাউকেই ভাল দেখাতে পারে। আর যদি কারও মনে হয় আমার কিছু ভুল হয়েছে, তাহলে বলুক কীভাবে ঠিক করা যায়, আমি সেটা ডাক্তারদের জানাব।”
বলিউডের ঝলমলে আলো থেকে দূরে সরে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য এক দুনিয়ায় নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন রিমি সেন। অভিনয় থেকে রিয়েল এস্টেট এই বদলে যাওয়া পথই এখন তাঁকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
