১৪ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সফল হয়েছিল। এই ছবি আসলে বন্ধুত্বের প্রতীক। নিজেকে চেনার পাশাপাশি জীবনকে দেখার সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারা এই ছবি তাই আজও চোখে হারান দর্শক। নাচ-গান-রোম্যান্স-ঝগড়া-বন্ধুত্বের মিশেলে তৈরি এই ছবি তাই জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় ছবির ইতিহাসে। ঝুলিতে ভরেছে অসংখ্য সব পুরস্কারও। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’–র যে ক’টি মুহূর্ত দর্শকের মনে আমৃত্যু থেকে যায়, তার মধ্যে অন্যতম ফারহান আখতার ও নাসিরুদ্দিন শাহের সেই মুখোমুখি দৃশ্য। সিনেমায় নাসিরুদ্দিন শাহ ছিলেন ফারহানের জীবনে ‘অদেখা, অনুপস্থিত’ শিল্পী-বাবা। যার সঙ্গে জীবনে প্রথম ও সেইবারই শেষবার দেখা হয় ফারহানের। সেই তীব্র আবেগের দৃশ্য বছর পর আবার আলোচনায়।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারহান অকপটে স্বীকার করেছেন, ওই দৃশ্য শুট করতে গিয়ে উঁকি দিয়েছিল তাঁর নিজের জীবনের বেদনাদায়ক অধ্যায়, বিশেষত বাবা জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের অনুভব, আর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সময়ের প্রশ্নগুলো।
“ওটা অভিনয় ছিল না… আবার করা ছিল সবচেয়ে কঠিন” মত ফারহানের। তাঁর কথায়,“ওই দৃশ্যে আমার সংলাপ খুব বেশি ছিল না। সবটা ছিল নাসির সাহেবের কাঁধে, আর তিনি অসাধারণ। আমাকে শুধু শুনে যেতে হয়েছিল। সেখান থেকে স্রেফ প্রতিক্রিয়া দেওয়া, অনুভব করা...ওটা সহজই ছিল আমার জন্য। তবে হ্যাঁ, কঠিন ছিল বারবার টেক দেওয়া। এমন দৃশ্য স্রেফ অভিনয় দিয়ে শেষ করা যায় না। দর্শককে মনে হতে হবে এই ছেলে প্রথমবার বাবার মুখ থেকে কথাটা শুনছে। যত বেশি টেক, তত বেশি ‘পারফর্ম’ করার প্রবণতা এসে পড়ে। প্রথম দুটো টেক বেশি সত্যি লেগেছিল…কারণ আমরা একবারও মহড়া দিইনি।”
এক গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে ফারহান আরও বলেন, “কেমন করে যেন ওই দৃশ্য আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল আমার ছোটবেলায়। তখন বাবাকে নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল, কেন বাবা-মা একসঙ্গে থাকে না, কী হয়েছিল এমন তাঁদের মধ্যে… এসব ছোটবেলার বিভ্রান্তি। হয়তো সেই জায়গাটা কোথাও ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই দৃশ্য-সংলাপ আর অজান্তেই বেরিয়ে এসেছিল আবেগগুলো।"
ফারহানের মতে, ওই মুহূর্তে তাঁকে আলাদা করে ‘আবেগপ্রবণ’ হওয়ার অভিনয় করতে হয়নি-“আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। অভিনয় করে কান্না নয়, ওটা একেবারে স্বাভাবিকভাবে এসেছিল।”
বন্ধুত্ব, ভালবাসা আর আত্মঅন্বেষণের এক কালজয়ী রোড-ট্রিপের নামই ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। জোয়া আখতার পরিচালিত ও এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ (২০১১)–তে অভিনয় করেছিলেন হৃত্বিক রোশন, অভয় দেওল, ফারহান আখতার, ক্যাটরিনা কাইফ ও কাল্কি কোয়েচলিন। মুক্তির ১৩ বছর পরও এই ফিল্ম বলিউডের অন্যতম প্রিয় রোড-ট্রিপ ড্রামা যেখানে বন্ধুত্ব, ভয় জয় করা, ভালবাসা আর আত্ম-আবিষ্কার মিশেছে একসঙ্গে।
ছবিপ্রেমী দর্শকরা বহু বছর ধরেই অপেক্ষা করে রয়েছে এই ছবির সিক্যুয়েলের জন্য। মাঝেমাঝেই বলিপাড়ার অন্দরে তা নিয়ে জল্পনা উঠলেও শেষমেশ কিছুই হয়নি। তবে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র সিক্যুয়েল নিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন ছবির সহ-লেখক রীমা কাগতি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, এই ছবির সিক্যুয়েল নিয়ে তাঁর ও জোয়া আখতারের কোনও তাড়াহুড়ো নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র গল্পের মানের সমপর্যায়ের কোনও উপযুক্ত গল্প তাঁদের মাথায় না আসছে, ততক্ষণ সিক্যুয়েল বানানোর কথা তাঁরা ভাববেন না। রীমার কথায়, “হয়তো শুনে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, এও মনে হতে পারে নিজের লেখা গল্প বলে একটু বেশি অহংকার করছি, কিন্তু আদপে তা নয়। আমি জানি আমাদের উপর কী প্রত্যাশা রয়েছে দর্শকের। তাই যতক্ষণ না ঠিকঠাক কোনও গল্প লিখতে না পারছি এই সিক্যুয়েলকে ছোঁব না। এটুকুই।”
