নব্বইয়ের দশকের তরুণ প্রজন্মের হৃদস্পন্দন ছিল যে চ্যানেল, সেই ‘এমটিভি’ এবার ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল। বছরের শুরুতেই একরাশ মন খারাপ করা খবর বয়ে আনল এই মিউজিক চ্যানেলটি। এমটিভি-র বেশ কিছু আইকনিক মিউজিক চ্যানেল পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিল মূল সংস্থা প্যারামাউন্ট গ্লোবাল। ৩১ ডিসেম্বর মাঝরাতেই চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিউজিক ভিডিও এবং রিয়্যালিটি শো-এর মাধ্যমে বিশ্ব বিনোদনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল এমটিভি। কিন্তু স্ট্রিমিং সার্ভিসের ক্রমবর্ধমান দাপট এবং ডিজিটাল যুগে দর্শকদের পছন্দ বদলে যাওয়ায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, মূলত দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বিজ্ঞাপনের ঘাটতির কারণেই এই নেটওয়ার্কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, এমটিভি-র অধীনে থাকা একাধিক জনপ্রিয় চ্যানেল যেমন— ‘এমটিভি ৮০এস’, ‘এমটিভি ৯০এস' এবং ‘এমটিভি জিরো জিরোজ’ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা পুরোনো দিনের ক্লাসিক গান শুনতে পছন্দ করতেন, তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে মানুষ আর টেলিভিশনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ইউটিউব, স্পটিফাই বা অ্যাপল মিউজিকের মতো প্ল্যাটফর্মে যখন ইচ্ছে তখন পছন্দের গান শোনা যায়। ফলে টেলিভিশনের মিউজিক চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে। প্যারামাউন্ট গ্লোবাল তাদের ব্যবসার নতুন কৌশল হিসেবে এখন ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘প্যারামাউন্ট প্লাস’-এ বেশি বিনিয়োগ করতে চাইছে। সে কারণেই পুরনো ধাঁচের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বন্ধ হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক দর্শকই আবেগপ্রবণ হয়ে সমাজমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেছেন। কেউ লিখেছেন, 'আমাদের কৈশোরের সেরা সঙ্গী ছিল এমটিভি। স্কুলের ব্যাগ রেখে গান শোনার সেই দিনগুলো আর ফিরবে না।' আবার কেউ একে একটি ‘যুগের অবসান’ বলে অভিহিত করেছেন।
যদিও ভারতে এমটিভি-র মূল চ্যানেলটি এখনও চালু রয়েছে, তবুও বিশ্বজুড়ে এই মিউজিক নেটওয়ার্কের একের পর এক শাখা বন্ধ হওয়া একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে— চিরাচরিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। বছরের শুরুতেই বিনোদন জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের এভাবে অবসান ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।
