সমাজমাধ্যমে হঠাৎই এক অদ্ভুত বিতর্কের কেন্দ্রে এসে পড়লেন অস্কারজয়ী হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। সেই ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে নাকি তাঁর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, “৭০ পাউন্ড শিশুর মাংস খাওয়া”-র মতো চাঞ্চল্যকর দাবি পর্যন্ত করা হয়!

এই অভিযোগ ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়ে এক্স, টিকটক এবং ফেসবুক-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো।

 


প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশিত আদালত নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়। বহু বছর ধরে চলা তদন্ত, সাক্ষ্য ও সিলমোহর খোলা নথির অংশবিশেষ জনসমক্ষে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়— কাদের নাম এসেছে, কার সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, এবং এসব তথ্যের রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়াতে পারে। এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্কের কারাগারে তার মৃত্যুকে ঘিরেও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। 


যাই হোক, ফের যাক লিও-র প্রসঙ্গে। যাচাইকৃত আদালতের কাগজপত্র ও প্রকাশিত এপস্টিন নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডিক্যাপ্রিওর নাম কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়। নরখাদকতার মতো অবাস্তব অভিযোগ তো দূরের কথা, কোনও বেআইনি কাজের ইঙ্গিতও নেই।ভাইরাল দাবিগুলি মূলত তৈরি হয়েছে সাক্ষ্যের ভুল ব্যাখ্যা, পুরনো ইন্টারনেট গুজব এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নির্ভর কনটেন্ট থেকে। পরে সেই বিকৃত তথ্যকে ‘ফাঁস হওয়া নথি’ বলে প্রচার করা হয়।

তদন্তে জানা যাচ্ছে, এই গুজবের জন্মের নেপথ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্র এবং অনলাইন চর্চার ফোরাম। সেখানে তৈরি ভুয়ো স্ক্রিনশট পরে এপস্টিন ফাইলের অংশ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চমকপ্রদ ও বিভৎস ভাষার কারণে পোস্টগুলি দ্রুত ভাইরাল হয়, যদিও কোনও পাকা প্রমাণ বা নথি তার সমর্থনে ছিল না। প্রকাশিত ইমেল বিনিময়ের মধ্যে অভিনেতার নাম এসেছে সামাজিক ও পেশাগত প্রেক্ষিতে।

 

২০০৯ সালের একটি ইমেলে, যা ব্রিটিশ প্রাক্তন মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন-এর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ডিক্যাপ্রিওকে ব্র্যান্ড সমর্থনের জন্য চাইতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

আবার ২০১৬ সালের এক ইমেল বিনিময়ে, যেখানে একটি অ্যাকাউন্টে দীপক চোপড়া নামটি দেখা যায়, সেখানে সম্ভাব্য এক ডিনার আয়োজনের প্রসঙ্গে অভিনেতাকে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে কি না তা নিয়ে কথা হয়।

এই যোগাযোগগুলির কোনওটিই অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না।

এপস্টিন তদন্তের নথিতে বহু পরিচিত ব্যক্তির নাম যোগাযোগ তালিকা বা সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। যেমন পরিচালক মীরা নায়ার বা অভিনেত্রী-পরিচালক নন্দিতা দাস-এর ক্ষেত্রেও নাম এসেছে, কিন্তু তা অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। ডিক্যাপ্রিওর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই।

ডিজিটাল যুগে এহেন চমকপ্রদ অভিযোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন তা বড় তারকার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু যাচাইকৃত তথ্য বলছে, এই বিতর্কটি মূলত গুজব, বিকৃতি এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আদর্শ ককটেল। বর্তমানে এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই যা ‘টাইটানিক’ ছবির নায়ককে এপস্টিন তদন্ত-সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে। 

&t=313s

এক কথায়, লিওকে নিয়ে এই নরখাদকতার ভাইরাল দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া।