গত ২৯ মার্চ 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর পাশেই ছিলেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। তিনিও জল পড়ে গিয়েছিলেন। তবে তাঁকে কোনও মতে বাঁচিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু গোটা ঘটনা তাঁকে ঠিক কতটা শক দিয়েছে সেটা ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতেই দেখা গিয়েছিল। মাঝে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোনে অধরা ছিলেন। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
শ্বেতা মিশ্র এদিন ইনস্টাগ্রামে আর্টিস্টস ফোরামের তরফে নেওয়া মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্তকে শেয়ার করেছেন। তারপরই তাঁর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে উত্তর আসে। কিন্তু অভিনেত্রীর ফোন তাঁর কাছে নেই বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে উত্তরে জানানো হয়, 'শ্বেতার কাছে এখন ওর ফোনটি নেই। এত বড় একটা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছিল, মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ও বিধ্বস্থ। ডাক্তার ওকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে বলেছে। তবে ও এমন একটা মানুষ যে সবসময় সত্যকে প্রাধান্য দিয়ে এসছে।'
একই সঙ্গে জানানো হয়, 'পরিবার হিসেবে আমরা আগে চেষ্টা করছি যাতে যত দ্রুত সম্ভব ও যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। মিডিয়া, সমাজের মানুষ এবং অবশ্যই রাহুল যাকে ও ভীষণ ভালবাসত, তাঁদের প্রতি ও ওর কর্তব্য ভোলেনি। একবার ও স্বাভাবিক হলেই ও ওর নিজে বক্তব্য রাখবে। এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত কথা মিডিয়া ও আইনজীবীদের জানাবে।'
এদিন শ্বেতার পরিবারের তরফে অনুরোধ করে বলা হয়, 'এই তদন্ত চলার মাঝে ওকে সুস্থ হতে দিন এবং ওর পাশে থাকুন যাতে ও সুস্থ হলে সঠিকের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং যেটা সঠিক সেটা করতে পারে।'
প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের অভিনেতা, অভিনেত্রীরা রীতিমত মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন। এমনকী ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকেই রাহুলের শেষকৃত্যে বা টলিউডের তরফে ডাকা প্রতিবাদ মিছিলেও দেখা যায়নি। এই নিয়ে বিস্তর চর্চা, জলঘোলা চলছে। চলছে ছিছিকার। যদিও সদ্যই এই বিষয়ে নীরবতা ভেঙেছেন এই ধারাবাহিকের অন্যতম অভিনেতা সিদ্ধার্থ সেন। তিনি আজকাল ডট ইনকে জানিয়েছেন, ''মাথায় সবসময় ঘুরছে সেদিনের ঘটনাটা। চোখের সামনেই শুটিং করতে করতে রাহুলদা জলে তলিয়ে গেল। অনেকেই বলছে শ্বেতাকে আগে উদ্ধার করা হয়েছিল, রাহুলদা জলে এক, দেড় ঘণ্টা বেশি ছিল। কিন্তু আমি তো দেখেছি, দু'জনকেই একসঙ্গে জল থেকে তোলা হয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই সব শেষ। যখন জানতে পারি রাহুলদা আর নেই, তারপর থেকেই শরীরের মধ্যে অস্বস্তি হতে থাকে। ঘুমাতে পারছি না ঠিক করে। জনসমক্ষে আসছি না বলে অনেকেই অনেককিছু ভাবছেন, কিন্তু আমি এই প্রসঙ্গে বারবার কথা বলতে পারছি না। বাড়িতেও এই নিয়ে কথা উঠছে না, যাতে আমি সুস্থ থাকতে পারি। চোখের সামনে দেখা এই ঘটনা ভোলা সম্ভব নয়। রাহুলদার মৃত্যুর তদন্ত হচ্ছে জেনে খুশি হয়েছি। আমিও চাই সত্যিটা যেন সবার সামনে আসে, তাহলে সবার মাথার মধ্যে যে হাজার প্রশ্ন ঘুরছে সেসব বন্ধ হবে।''
এই বিষয়ে এও জানিয়ে রাখা ভাল, আর্টিস্টস ফোরামের তরফে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থাকে দুর্ঘটনার কারণ সহ নানা বিষয় নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তার জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় প্রিয়াঙ্কা সরকার আর্টিস্টস ফোরামের সঙ্গে গিয়ে FIR করেছেন। FIR করা হয়েছে তালসারিতেও। অন্যদিকে আগামী মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে টলিউড।
















