রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শুরু হয়েছে টলিউডের অন্দরে নজিরবিহীন টানাপোড়েন। ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তথা ইম্পা-র সভাপতি পদ নিয়ে নানা বিক্ষোভ সামনে আসে। অবশেষে সেই দোলাচলের অবসান ঘটল। ইম্পার নতুন সভাপতি হলেন রতন সাহা। 

গত ২২ মে ইম্পার সাধারণ সভায় সংগঠনের অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে রতন সাহা-কে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেই মিটিংয়ে তিনশোর বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার সেই সেই রতন সাহাই স্থায়ী সভাপতি পদ পেলেন। একইসঙ্গে নতুন ওয়ার্কিং কমিটি গঠন হবে বলেও খবর। 

গত কয়েক মাস ধরেই ইম্পার অন্দরে ক্ষমতার অলিন্দে যুদ্ধ চলছিল। প্রযোজকদের একটি বড় অংশ ইম্পার প্রাক্তন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিবাদ এমন চরমে পৌঁছায় যে, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাতারাতি প্রবীণ প্রদর্শক ও প্রযোজক রতন সাহাকে সংগঠনের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। এরপর থেকেই পিয়া সেনগুপ্তের ওপর পদ ছাড়ার চাপ আরও দ্বিগুণ হতে শুরু করে।

এরপরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপসারণের দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। পিয়া জানিয়েছিলেন, একমাত্র আদালত যদি তাঁর এই কার্যকালকে বেআইনি বা অবৈধ ঘোষণা করে, তবেই তিনি চেয়ার ছাড়বেন। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা ঘেরাও, বিক্ষোভ আর সংগঠনের অচলাবস্থার জেরে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পথে না হেঁটে পিছু হটতেই বাধ্য হটেন তিনি। 

শেষমেশ গত ১৩ জুলাই ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তথা ইম্পা-র সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। এরই মধ্যে ইম্পার নতুন সভাপতি নাম ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সমাজমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ইম্পার নতুন সভাপতি করা হয়েছে কৃষ্ণ নারায়ণ দাগাকে। তবে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়েছেন ইম্পার সদস্য তথা পরিবেশক শতদীপ সাহা। একটি লিখিত বিবৃতিতে শতদীপের বক্তব্য, কৃষ্ণ দাগাকে ইম্পার সভাপতি করা হয়েছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই। কোনও তথ্য পোস্ট বা 'ফরোয়ার্ড' করার আগে অবশ্যই তা যাচাই করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আপাতত রতন সাহাই ইম্পার নতুন সভাপতি থাকলেন পদে থাকলেন।