চলতি বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এবং চর্চিত হলিউড হরর ছবি ‘অবসেশন’ নিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। ভারতের সেন্সর বোর্ড ছবিটিতে একগুচ্ছ কাঁচি চালানোয় এবং এটিকে ‘এ’ বা অ্যাডাল্ট তকমা দেওয়ায় নেটপাড়ায় ক্ষোভের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতীয় দর্শকরা দলে দলে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেই ছবি দেখার জন্য প্রেক্ষেগৃহে ঢোকার বয়স না হওয়া সত্ত্বেও নাবালক ছেলেমেয়েরা লুকিয়ে এই হাড়হিম করা ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে চুপচাপ ঢুকে পড়ছে! সম্প্রতি, এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ এবং ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ খ্যাত বলিউডের নামী পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত ।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সঞ্জয় গুপ্ত ওঁর সাম্প্রতিক সিনেমা দেখার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ওঁর নিজের কিশোর ছেলে যখন ‘অবসেশন’ দেখছিল, তখন সঞ্জয় নিজে অন্য একটি স্ক্রিনে সদ্য মুক্তি পাওয়া একটি মালয়ালম ছবি দেখছিলেন।

 

এক্স হ্যান্ডেলে পরিচালক লেখেন, “গতকাল সন্ধ্যায় আমি একটা সদ্য মুক্তি পাওয়া মালয়ালম ছবি দেখতে গিয়েছিলাম এবং পুরো প্রেক্ষাগৃহে আমি একাই ছিলাম।  কিন্তু ঠিক তার পাশের স্ক্রিনেই আমার ছেলে ‘অবসেশন’ দেখছিল এবং সেই থিয়েটারটা পুরো দর্শকে ঠাসা ছিল, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালক! এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক যে কীভাবে এই সিনেমাটা চারিদিকে এমন আলোড়ন তৈরি করেছে।”

সঞ্জয় গুপ্তের এই পোস্টের পরেই ওঁর ফলোয়ার্সদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যেহেতু ছবিটি ‘এ’ রেটেড, তাই মাল্টিপ্লেক্স বা থিয়েটার কর্তৃপক্ষ কীভাবে নাবালকদের ঢুকতে দিল, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। অনেকে আবার অনুমান করছেন, সঞ্জয় গুপ্ত যে মালয়ালম ছবিটির কথা বলছেন, সেটি হয়তো গত ২৮ মে মুক্তি পাওয়া পল জর্জ পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কাত্তালান’, যেটিতে অভিনয় করেছেন অ্যান্টনি ভার্গিস, সুনীল এবং জগদীশ। উল্লেখ্য, সঞ্জয় গুপ্তের নিজের পরিচালিত শেষ ছবি ছিল ২০২৪ সালের ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’।

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">May 30, 2026

 

 

কারি বার্কার (Curry Barker) পরিচালিত এবং মাইকেল জনস্টন ও ইন্দি নাভারেত অভিনীত ‘অবসেশন’ ছবিটি ইতিমধ্যেই ‘রটেন টমেটোস’ -এ ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া হরর ছবি হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছে। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক যুবককে কেন্দ্র করে, যে ওঁর ভাললাগার মানুষের  মন জয় করতে ‘ওয়ান উইশ উইলো’ নামের একটি রহস্যময় গাছের ডাল ভেঙে ফেলে। কিন্তু এরপর খুব তাড়াতাড়ি সে বুঝতে পারে যে এই ইচ্ছাপূরণের জন্য তাকে চড়া মূল্য চোকাতে হবে, কারণ ওঁর সেই ক্রাশের আচরণ অদ্ভুত ও ভয়ানক হতে শুরু করে।
গত ১৫ মে আমেরিকায় মুক্তির পর, ভারতে গত ২৯ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি।

ভারতে ছবিটির সেন্সর সার্টিফিকেটের কাটছাঁটের তালিকা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়, তখন দর্শকরা বেশ চটে যান। তামাক ও মদ্যপান বিরোধী সতর্কবার্তা সহ ছবিটির মোট রানটাইম ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (১১০.২৯ মিনিট)। সেন্সর বোর্ড মূলত দুটি জায়গায় বড় কোপ মেরেছে -
১. ২৪ সেকেন্ডের তীব্র হিংস্রতা: ছবিতে থাকা মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষয়ী মারামারি ও ভায়োলেন্সের দৃশ্য ২৪ সেকেন্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২. ১৪ সেকেন্ডের যৌন দৃশ্য: ছবিতে থাকা কিছু  যৌনদৃশ্য পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ৩৮ সেকেন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ বাদ দেওয়া সত্ত্বেও বক্স অফিসে ‘অবসেশন’-এর জয়রথ থামানো যাচ্ছে না। বয়সের তোয়াক্কা না করে যেভাবে কম বয়সীরা এই সাইকোলজিক্যাল হরর দেখতে হলমুখী হচ্ছে, তা ভারতীয় প্রদর্শকদের যেমন লাভবান করছে, তেমনই প্রেক্ষাগৃহের নিয়মকানুন, নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।