কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ সাউথ এশিয়া টরন্টো (আইএফএফএসএ টরন্টো) চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নিয়েছিল ‘সেরা ছবি’র (আন্তর্জাতিক) পুরস্কার। যা বিশ্বের অন্যতম বড় ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। তারপর গত বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF)-এ ব্যাপক সাড়া পেয়েছে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘নধরের ভেলা’ (The Slow Man and His Raft) ছবি। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ইন্টারন্যাশন্যাল কম্পিটিশন: ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজেস’ বিভাগে দেখানো হয়েছিল সেই ছবি। ওই বিভাগে একমাত্র ভারতীয় ছবি হিসেবে ছিল কেবল ‘নধরের ভেলা’-ই। এবার চলতি মাসেই সে ছবি মুক্তি পাবে বড়পর্দায়। তবে এই মুক্তি পাওয়াটা খানিক অন্যরকম। ব্যাকরণ মেনে ছবির যে প্রিমিয়ার হয়, তা না মেনেই! প্রথাগত নিয়মের খানিক হিসেব-নিকেশের বাইরে, ঠিক এই ছবির পরিচালক এবং তাঁর গল্প বলার ধারার মতোই। কলকাতার কোনও ঝাঁ চকচকে প্রেক্ষাগৃহে এই ছবির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান তো হচ্ছেই না, এমনকী এই শহর ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে ছবির স্ক্রিনিং হবে স্বাধীনভাবে!

খুলেই বলা যাক ব্যাপারটা। ছবিটি শুট হয়েছিল প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নিজের গ্রাম নদিয়ার তেহট্টে। নধরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিত সাহা, আর সার্কাস ম্যানেজারের চরিত্রে দেখা যাবে ঋত্বিক চক্রবর্তীকে। পরিচালকের কথায়, “এক অর্থে, অমিত এই ছবির নায়ক আর ঋত্বিক খলনায়ক।” এবার ২৫ জানুয়ারি এই ছবির প্রিমিয়ার হবে নদিয়ার সেই তেহট্টে-ই। দীনবন্ধু মঞ্চে। সেদিন দু'টি শো হবে। দুপুর ১:৪৫ এবং সন্ধ্যা ৫:৪৫। ঋত্বিক-অমিত সহ উপস্থিত থাকবে ছবির গোটা কাস্ট। গোটা বিষয়টি নিয়ে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বললেন পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য।

ছবিমুক্তি নিয়ে কেন এই ভাবনা? স্পষ্ট ভাষায়, ছোট্ট করে পরিচালকের জবাব, " এর পিছনে দু'টি কারণ রয়েছে। পরিষ্কার করে বলে দিই, আমার পরিচালিত শেষ দু'টি ছবির মুক্তি নিয়ে এবং প্রেক্ষাগৃহ পেতে যে সমস্যা পোহাতে হয়েছিল তা এক্ষেত্রে আর চাইছি না কোনওভাবেই। আর সত্যি কথা বলতে কী, প্রথাগতভাবে ছবিমুক্তির জন্য যে টাকা লাগে তা আমার নেই, আমাদের নেই। এটা এক নম্বর কারণ। " সামান্য থেমে তিনি ফের বলে উঠলেন, " আর দ্বিতীয় কারণ হল, মানুষের কাছে বাংলা ছবিকে তো পৌঁছে দিতে হবে। তাঁরা প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে আসবেন কি না, কখন আসবেন এই হিসেবনিকেশ না করে তাঁদের কাছেই ছবিটা নিয়ে গিয়ে হাজির হয়ে যাওয়াটাই বেটার অপশন বলে আমার মনে হয়। এইমুহূর্তে বাংলা ছবির দর্শকের কাছে নিজের ছবি পৌঁছে দেওয়ার এটাই সেরা উপায় বলে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে।"

পরিচালকের কথা থেকে আরও জানা যায়, কলকাতাতেও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘নধরের ভেলা’র স্ক্রিনিং হওয়ার কথা। এবং বাংলার অন্যান্য জেলাতেও। ঠিক এরকমভাবেই। এবং বলাই বাহুল্য এই ছবি দেখার জন্য অবশ্যই টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। সেসব তালিকা এবং সময়সূচি ক্রমশ প্রকাশ্য।
নধরের ভেলা’ এক ‘মিসফিট’ মানুষের গল্প। সমাজের চোখে যে ‘মিসফিট’। তাঁর ‘অপরাধ’? সে অত্যন্ত ধীরগতি। অলস নয় কিন্তু, ধীরগতির মানুষ। যা-ই সে করে, সমস্তটাই ভীষণ আস্তে আস্তে করে। সেই মানুষটাই পাকেচক্রে ঢুকে যায় এক ভ্রাম্যমান সার্কাসের দলে। সেখানে তার সঙ্গে কী কী ঘটছে, সেই সার্কাসের দলের বাকি শিল্পী, লোকজন তার সঙ্গে কী কী করছে, তাদের অবস্থান কী...তাদের পেশা ও নিজেদের জীবন নিয়ে দোলাচলের মধ্যে এমন একটি মানুষ হাজির হওয়াতে কী হয় শেষমেশ তাই নিয়েই এই ছবি। কথাশেষে তাঁর সংযোজন, “এই ছবির মাধ্যমে কিন্তু সেভাবে আমি গুরুতর বার্তা দিতে চাইনি। যদি কেউ এই ছবি থেকে কোনও বার্তা পান, সেটা তাঁর নিজস্ব অর্জন। তবে এই ছবি দেখলে, দর্শকের অন্যরকম অনুভূতি হবে, এটুকু বলতে পারি।”
