মুক্তির আগেই গুরুতর আইনি জটিলতায় জড়াল রণবীর সিংয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর ২’। দক্ষিণ মুম্বইয়ের করা নিরাপত্তাজনিত এলাকায় শুটিং চলাকালীন অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহার করার অভিযোগে ছবির লোকেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছবির লোকেশন ম্যানেজার রিঙ্কু রাজপাল বাল্মিকী প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না নিয়েই ফোর্ট এলাকায় ড্রোন ওড়ান। বিষয়টি সামনে আসতেই ১ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের এমআরএ মার্গ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘ধুরন্ধর ২’-এর মুক্তির তারিখ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, ১৯ মার্চ, ২০২৬।
সূত্রের খবর, ছবির একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হলেও, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দপ্তর বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ফোর্ট এলাকায় আকাশপথে শুটিং করতে একাধিক স্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সেই নিয়মই নাকি ভেঙেছে ছবির ইউনিট।
আরও জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটে শুটিং শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর। ১ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ শিডিউলের তৃতীয় দিনে শুটিং চলছিল, সেই সময় সেটে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জয় দত্ত। শুটিংয়ের জন্য ৩০ জানুয়ারি থেকে ফোর্ট এলাকার একটি অংশ নতুন করে সাজানো হয়েছিল। পুরনো, ভিড়ঠাসা পাকিস্তানি গলির আদলে তৈরি করা হয়েছিল সেট। সেই সাজানো সেটেই ড্রোন ব্যবহার নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে ছবির প্রযোজনা সংস্থা বা নির্মাতাদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছুদিন আগেই জিও স্টুডিওস এবং বি৬২ স্টুডিওস ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর টিজার প্রকাশ করেছে। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সাফল্য পায় এবং বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১৩০০ কোটিরও বেশি ব্যবসা করে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক ভারতীয় গুপ্তচরের পাকিস্তানি মাফিয়ার ভিতরে ঢুকে দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের তথ্য জোগাড় করার দুঃসাহসিক অভিযান। দ্বিতীয় পর্বে দর্শকরা দেখবেন, রণবীর সিং অভিনীত হামজা আলি মাজারি কীভাবে পাক মাফিয়ার ভেতরে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করে এবং অর্জুন রামপাল অভিনীত মেজর ইকবাল-সহ বাকিদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নেয়।
১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ধুরন্ধর ২’। একই দিনে মুক্তি পাওয়ার কথা যশের ‘টক্সিক’ ছবিরও, ফলে বক্স অফিসে যে বড়সড় সংঘর্ষ অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে মুক্তির আগে এই আইনি বিতর্ক ছবির যাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ইন্ডাস্ট্রি।
