ইতিহাস তৈরি করল বাংলা সিনেমা। বিশ্ব দরবারে আরও এক ধাপ এগোল টলিউড। এবং তাঁর নেপথ্যে রয়েছেন দেব! কীভাবে? খুলেই বলা যাক গোটা ব্যাপার। ‘প্রজাপতি ২’ গর্বের সঙ্গে নিজের নাম তুলে নিল এক অনন্য মাইলস্টোনে -সৌদি আরবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মাধ্যমে এই ছবি হয়ে উঠল সৌদি আরবের মাটিতে প্রদর্শিত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সৌদি আরবে সিনেমা হলের যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র তিন বছর আগে। সেই সদ্য-গড়ে-ওঠা প্রেক্ষাগৃহেই প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিল একটি বাংলা ছবি, যা নিঃসন্দেহে শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, বরং বাংলা সিনেমার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গোটা বিষয়টি একটি ছোট্ট ভিডিওর সঙ্গে পোস্ট করে ফেসবুকে লিখলেন দেব।

দেবের পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সৌদি আরবে হওয়া ‘প্রজাপতি ২-র সেই প্রিমিয়ারে হাজির বহু ছবিপ্রেমী মানুষ। হল ভরা দর্শকের ছবির পাশাপাশি সেই ভিডিওতে উঠে এল ছবি দেখার পর দর্শকের উচ্ছ্বাসের দৃশ্যও। এবং অবশ্যই সেই দর্শকের উদ্দেশ্যে দেবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
‘প্রজাপতি ২’-এর এই আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার যেন নতুন করে ঘোষণা করে দিল বাংলা সিনেমার গল্প আর শুধুই আঞ্চলিক নয়, তার আবেদন এখন বিশ্বজনীন। সীমান্ত পেরিয়ে সম্পর্ক, আবেগ আর মানবিক গল্প বলার শক্তিই পৌঁছে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকের কাছেও। এই সাফল্যের সঙ্গে শুরু হল বাংলা ছবির আন্তর্জাতিক যাত্রার এক নতুন অধ্যায়। মধ্যে প্রাচ্যে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি উদযাপিত হল গল্প আর বিশ্ব মঞ্চে আরও একবার দৃপ্ত কণ্ঠে শোনা গেল বাংলা সিনেমার উপস্থিতি।

প্রসঙ্গত, দর্শকের আবেদন মেনেই গত বছর অর্থাৎ ২০২৫-এর বড়দিনে মুক্তি পেয়েছে ‘প্রজাপতি ২’। অভিজিৎ সেনের পরিচালিনায় এই ছবিতে ফের মিঠুন-দেবকে দেখতে প্রেক্ষেগৃহে উপচে পড়েছিল দর্শক। ক্রিসমাসের এই আবহে আরও দু'টি বাংলা ছবি মুক্তি পেলেও ‘প্রজাপতি ২’-এর নামের পাশেই বসেছে ফার্স্ট বয়-এর তকমা। জানিয়ে রাখা ভাল, ‘প্রজাপতি ২’তে ‘সিঙ্গল ফাদার’-এর চরিত্রে দেখা গিয়েছে দেবকে। ছবিতে তাঁর ছোট্ট মেয়ের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে অনুমেঘ কাহালি-কে। এবং দেবের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। ছবিতে দেব-মিঠুন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী, ইধিকা পাল, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রমুখ। এ ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় পা রেখেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।
‘প্রজাপতি ২’ ছবিতে একজন ‘সিঙ্গল ফাদার’ দেব। মেয়েকে নিয়ে লন্ডনেই থাকেন দেব। ভালবাসেন রান্না করতে। পাশাপাশি দেশ থেকে দূরে থাকলেও সেখানে থাকা বাবা-মায়ের দুঃখ-কষ্ট জানতে পারলে নিমেষে তা দূর করার কোনও সুযোগ ছাড়েন না তিনি। ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য লন্ডনে পাড়ি দেন মিঠুন।ছবির বিষয়বস্তু ছেলের বিয়ে হলেও এর মধ্যে চলতে থাকে দুই বাবার মান অভিমান।ছবিতে একটি ব্যাপার স্পষ্ট করে তুলে ধরে হয়েছে যে এই দুই প্রজন্মের বাবা যে বয়সী-ই হোক না কেন, দিনের শেষ তাঁরা সন্তানের বাবা। দু’জনেই চান নিজের সন্তান যেন থাকে 'দুধে-ভাতে'। আসলে, পিতৃত্বসুলভ ভালবাসা মানে না কোনও বয়সের ব্যাকরণ। এরপর একদিকে সন্তান, অন্যদিকে বাবা এবং সব থেকে বড় কথা কাজের সমস্যা সবকিছু নিয়েই জীবনে বড় লড়াইয়ের সামনে এসে দাঁড়ান দেব। শেষমেশ বাবার সাহায্যে দেব কি কাটিয়ে উঠতে পারলেন সেই সমস্যা? জীবনের নতুন ইনিংস দৃপ্তভাবে শুরু করতে পারলেন কি তিনি? সেই সব উত্তরই লুকিয়ে রয়েছে ছবির শেষে।
