জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রায় কেউই। জানা গিয়েছে, ২৯ মার্চ রবিবার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতার! রবিবার সন্ধ্যাতেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ওড়িশার তালসারি সংলগ্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোটে চেপে ঘোরার সময় বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকের দল।
রাহুলের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন অভিনেতা তথা সাংসদ দেব। মঙ্গলবার কোচবিহারের চান্দামারিতে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন দেব। কিন্তু মন পড়েছিল কলকাতায়। রাহুলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব স্মৃতিচারণা করেন তাঁদের শুরুর দিনগুলোর। দেব জানান, রাহুলের প্রথম ব্লকবাস্টার ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ তিনি একটি আইটেম গানে পারফর্ম করেছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁদের আলাপ।
দেব বলে ওঠেন, “রাহুলের চলে যাওয়ায় ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি হল। ওর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার কাছে খুবই স্পেশ্যাল।” তিনি আরও জানান, রাহুল অভিনীত একটি ছবিতে তিনি আইটেম গানে নাচ করেছিলেন। সেই কাজের সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। “ওটা চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির কথা। তারপর আমরা একসঙ্গে শপিংয়েও গিয়েছিলাম। খুব প্রাণবন্ত মানুষ ছিল রাহুল,” স্মৃতিচারণায় জানান দেব। সমুদ্রের ঢেউ যেভাবে এক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল, তা যে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে সাংসদ-অভিনেতারকথায় ।
এদিন কোচবিহারের চান্দামারিতে নির্বাচনী প্রচারে উপস্থিত ছিলেন দেব। প্রচারের ফাঁকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাহুলের প্রসঙ্গে কথা বলেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মীর মৃত্যুতে তাঁর এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে সকলের।
টলিউডের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাহুল ছিলেন অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা। তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করেছিল। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকে।
বিজয়গড়ের মানুষের কাছে রাহুল কোনও বড় তারকা নন, ছিলেন শুধুই পাড়ার ছেলে ‘বাবিন’। তাঁর অমায়িক ব্যবহার আর হাসিমুখের স্মৃতি হাতড়ে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন শুধুই প্রিয় অভিনেতাকে হারানোর হাহাকার।এইমুহূর্তে ভিড় উপচে পড়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়গড়ের বাড়ির নীচে। চোখের জলে 'বাবিন'কে শেষবার বিদায় জানাতে এসেছে প্রতিবেশীরা। রাহুলের মরদেহ নিয়ে শববাহী গাড়ি বেরিয়ে পড়েছে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশ্যে। বাড়ি থেকে, একেবারে আড়ম্বরহীনভাবেই রাহুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে কেওড়াতলা শ্মশানে। মাঝখানে কোনও জায়গাতেই -স্টুডিও অথবা প্রেক্ষগৃহের চত্বর, কোথাও শায়িত রাখা হয়নি রাহুলের দেহ।
&t=2069s















