দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসন থেকে স্টুডিও পাড়া—বিকেলের পড়ন্ত রোদে এখন সবথেকে বড় খবর এটাই! টলিউডের ‘পাওয়ার পলিটিক্স’-এ কি তবে বড়সড় পালাবদল ঘটল? ফেডারেশন বনাম ডিরেক্টরস গিল্ডের যে লড়াই আদালত অবধি গড়িয়েছিল, অভিনেতা-সাংসদ  দেব-এর এক ডাকেই তা যেন জাদুর মতো সমাধান হয়ে গেল। স্রেফ ৭২ ঘণ্টায় মামলা তুলে নিল ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন।


রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর কলাকুশলী এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সম্প্রতি বৈঠক চলে ফেডারেশন, ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম এবং প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে। সেখানে শিল্পীদের নিরাপত্তা ছাড়াও আলোচনা হয় ব্যান নিয়ে। দেব মিটিং শেষে বলেন, "অনেক পরিচালক, অভিনেতারা ব্যান হয়ে আছে তাঁরা ৭২ ঘণ্টায় ফিরবে কাজে। যাঁরা যাঁরা ব্যান হয়ে আছেন তাঁদের সঙ্গে প্রসেনজিৎ দা কথা বলবেন। তারপর জানাবেন। যাঁদের কাজ নেই তাঁরা বুঝবেন বিষয়টা কেমন। তাই এই বিষয়েও আজ কথা হয়েছে।" তিনি সেদিন টলিউডে যে অভিনেতা বা পরিচালকরা ব্যানড তাঁদের বিষয়ে কথা বলেন। সুপারস্টার বলেন, "আমরা আর আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নই আর। একটা পরিবার, একটা ছাদ। এতদিন অনেক আর্টিস্ট ব্যান হয়ে পড়ে আছে, অনেক পরিচালকরাও ব্যানড। বুম্বাদা আমায় ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। ব্যান উঠবে। তারা কাজে ফিরবে, কথা দিয়েছে বুম্বাদা।" দেবের আরও সংযোজন, "কাজ করতে না দেওয়া এমন একটা কষ্ট...। এটা ঠিক নয়। যাদের কাজ নেই তারা সেটা বোঝে। সেই সিদ্ধান্তও আজ নেওয়া হল। বুম্বাদা কী করবে, স্বরূপের সঙ্গে কী কথা বলবে জানি না। কিন্তু ব্যান তুলে দেওয়া হবে।"

 


টলিপাড়ায় যখন ‘ব্যান’ আর ‘মামলা’ নিয়ে চরম অস্থিরতা, ঠিক তখনই আসরে নামলেন দেব। কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-তে পরিচালকদের দায়ের করা মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর সেই অনুরোধের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মামলা তুলে নেওয়ায় খুশির হাওয়া স্টুডিও পাড়ায়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেব লিখলেন, "সিনেমা বাঁচে একতা আর শ্রদ্ধার ওপর। আমি বিশ্বাস করি ইন্ডাস্ট্রিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব, দাবি 'প্রজাপতি ২' ছবির নায়কের। তাহলে কি টলিপাড়ায় শেষ হল ব্যান সংস্কৃতি? সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দেব সরাসরি ‘ব্যান’ বা বয়কটের সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এবার এই নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

 

 

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু-রহস্য নিয়ে যখন টলিপাড়া উত্তপ্ত, ঠিক তখনই দেবের এই ‘শান্তি প্রস্তাব’ এবং তার সফল বাস্তবায়ন কি নতুন কোনও মোড় আনবে? পরিচালকদের এই নমনীয়তা কি ইন্ডাস্ট্রির কালো মেঘ কাটিয়ে দেবে? উত্তর দেবে সময়।