চেক বাউন্স সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সমঝোতার জন্য যে অর্থ ধার্য করা হয়েছিল, সেটিয়াও দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফের বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। খবর, দিল্লি হাই কোর্ট রাজপাল নওরঙ্গ যাদবকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারিনটেনডেন্টের কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, চেক সংক্রান্ত এই মামলাগুলিতে আগে যে নমনীয়তা দেখানো হয়েছিল, তা এবার প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কারণ, বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সমঝোতার অর্থ পরিশোধ করেননি অভিনেতা। বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা পর্যবেক্ষণে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ মীমাংসা হবে এবং অভিযোগকারী সংস্থাকে অর্থ দেওয়া হবে, এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই আদালত আবেদনকারীকে বিশেষ ছাড় দিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনওটাই রক্ষা হয়নি।আদালত আরও জানায়, ২০২৪ সালের জুন মাসেই সমঝোতার সুবিধার্থে ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া সাজা স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী একাধিক নির্দেশে উল্লেখিত আর্থিক দায়বদ্ধতা পালন করা হয়নি।

রেকর্ডে উঠে এসেছে, একাধিকবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কয়েক কোটি টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন রাজপাল যাদব। এমনকি ডিমান্ড ড্রাফট ও কিস্তিতে টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়েনি। ডিমান্ড ড্রাফটে প্রযুক্তিগত বা টাইপোগ্রাফিক ত্রুটির যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, আদালত তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। বিচারপতির মতে, ধারাবাহিক অনিয়মের প্রেক্ষিতে এই ধরনের যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া, সংশোধন বা ব্যাখ্যার জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদনও দায়ের করা হয়নি। বারবার অর্থ শোধের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, বাস্তবে শুধুই নতুন করে সময় চাওয়া হয়েছে।

">

অভিনেতার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি বর্তমানে মুম্বইয়ে পেশাগত কাজে ব্যস্ত। সেই কারণে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সীমিত সময় দেওয়া হয়েছে আত্মসমর্পণের জন্য। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যেখানে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারিনটেনডেন্টকে আদালতে আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।