দীপিকা পাড়ুকোনকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে। সূত্রের খবর, ম্যাডক ফিল্মসের সঙ্গে দুটি বড় বাজেটের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা চলছে তাঁর। সম্প্রতি, ম্যাডকের অফিসে দীপিকার একটি গোপন সফরই এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।

 

সবচেয়ে জোরালো চর্চা ঘুরপাক খাচ্ছে ম্যাডকের জনপ্রিয় হরর-কমেডি ইউনিভার্স, অর্থাৎ স্ট্রিভার্স ঘিরে। শোনা যাচ্ছে, এই ইউনিভার্সের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য দীপিকাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এক রহস্যময় বাঙালি প্রেতাত্মার চরিত্র, নাম শাঁখচুন্নি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, এই চরিত্রটি শুধু ভয়ঙ্কর নয়, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। অর্থাৎ, স্ত্রী-ভার্সের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে এই চরিত্র!

 

যদি এই চরিত্রে রাজি হন দীপিকা, তাহলে সেটা তাঁর কেরিয়ারের এক বড় বাঁক হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। গ্ল্যামারাস, স্টাইল আইকনের পরিচয় ছাপিয়ে এক ভয়ংকর অতিপ্রাকৃত সত্তায় রূপান্তর। বলিউডে এই ধরনের শিফট খুব কম তারকার ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে।

 

শাঁখচুন্নি ছাড়াও দীপিকার সামনে রয়েছে আরও একটি বড় প্রস্তাব। ম্যাডক নাকি একটি বৃহৎ ফ্যান্টাসি এপিক তৈরির ছক কষছে, যেখানে মুখ্যচরিত্রে দীপিকাই তাঁদের প্রথম পছন্দ। ছবিটিকে ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকল হিসেবে ভাবা হচ্ছে বলে খবর। তবে এই প্রকল্প নিয়ে এখনই কোনও বিস্তারিত তথ্য বাইরে আসেনি।

 

দুই প্রজেক্টেই আগ্রহ দেখালেও, দীপিকা নাকি পেশাদার মনোভাবেই বিষয়টা সামলাচ্ছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য পড়তে চেয়েছেন। ফলে আপাতত ম্যাডক সংস্থা মুখে কুলুপ এঁটেছে, যদিও দীপিকার ওই ‘চরিত্র’র কথা নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিউডের অলিতেগলিতে কথা শুরু হয়েছে। দীপিকা বর্তমানে ব্যস্ত শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবির শুটিংয়ে।

 

উল্লেখ্য, ম্যাডকের হরর-কমেডি ইউনিভার্সের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮-তে মুক্তি পাওয়া ‘স্ত্রী’ দিয়ে। এরপর একে একে এসেছে ‘ভেড়িয়া’, ‘মুঞ্জ্যা’, ২০২৪-এর ব্লকবাস্টার ‘স্ত্রী ২: সরকাটা কা আতঙ্ক’ এবং ২০২৫-এর ‘থম্মা’। সামনে রয়েছে ‘শক্তি শালিনী’, ‘ভেড়িয়া ২’, ‘চামুন্ডা’, ‘স্ত্রী ৩’ ও ‘মহা মুঞ্জ্যা’। আর পুরো সাগার দুই পর্বের গ্র্যান্ড ফিনালে ‘মহাযুদ্ধ’ মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৮ সালে।

 

সব মিলিয়ে, সবুজ সংকেত মিললে দীপিকার কেরিয়ারে শুরু হতে পারে একেবারে নতুন অধ্যায়-শাঁখচুন্নি থেকে ফ্যান্টাসি সম্রাজ্ঞী, দুটো পথই খুলে রয়েছে।