বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপক তিজোরি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর আসন্ন ছবির জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে আদায় করেছেন। এই ঘটনায় গোরেগাঁওয়ের কবিতা শিবাঘ কুপার, ফৌজিয়া আরশি এবং আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।

নয়ের দশক থেকে দর্শকের কাছে পরিচিত অভিনেতা–পরিচালক দীপক। ‘আশিকি’ ছবির মাধ্যমে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তাঁর নতুন হিন্দি ছবি ‘টম, ডিক অ্যান্ড মেরি’র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। ছবিটির জন্য অর্থসংস্থানের খোঁজে থাকাকালীন এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় কবিতা কুপারের সঙ্গে। যিনি নিজেকে টি-সিরিজের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।

দীপকের পরিকল্পনা কবিতা শোনেন এবং জানান যে, জি নেটওয়ার্ক ও মিডিয়া জগতে তাঁর ভাল যোগাযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে ছবিটির জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব। পরে দীপক জানতে পারেন, কবিতা ইতিমধ্যেই টি-সিরিজ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবিতা তাঁকে ওশিওয়ারায় ফৌজিয়া আরশির বাড়িতে নিয়ে যান। ফৌজিয়া নিজেকে একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসাবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন যে, তিনি শীঘ্রই একটি এয়ারলাইন সংস্থাও চালু করতে চলেছেন। তিনি আরও বলেন, জি নেটওয়ার্কে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং সেখান থেকে একটি ‘লেটার অফ ইন্টারেস্ট’ জোগাড় করে দিতে পারবেন, যা দেখিয়ে দীপক সহজেই বিনিয়োগকারী সংগ্রহ করতে পারবেন।

এই চিঠি জোগাড় করে দেওয়ার জন্য ফৌজিয়া ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন, যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে দু’টি কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে তিনি দীপকের সঙ্গে এক ব্যক্তির ফোনালাপ করান, যিনি নিজেকে জি নেটওয়ার্কের ‘মিস্টার যোশী’ বলে পরিচয় দেন। কথাবার্তা সত্যি বলে মনে হওয়ায় দীপক প্রথম কিস্তি হিসাবে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেন।

অভিযুক্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে চিঠি দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সে বিষয়ে একটি চুক্তিপত্রেও সই করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতর নথি আর দেওয়া হয়নি, বরং তাঁরা দীপক ফোন ধরা ও যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করেন।

সন্দেহ হওয়ায় দীপক নিজেই খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, জি নেটওয়ার্কে ‘যোশী’ নামে কোনও ব্যক্তি কর্মরত নেই। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে টি-সিরিজ ও জি নেটওয়ার্কের মতো নামী সংস্থার নাম ব্যবহার করে তাঁকে প্রতারিত করা হয়েছে।

এরপর তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কবিতা কুপার, ফৌজিয়া আরশি এবং তাঁদের সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা রুজু করা হয়েছে। শীঘ্রই তিন অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।