সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী, শ্বশুর বাড়ির নামে অভিযোগ করে, শো থেকে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। পিজি হাসপাতাল তথা এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একটু সুস্থ হতেই সেখান থেকেই লাইভ করলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। 

দেবলীনা নন্দী তাঁর লাইভে জানান তাঁকে শ্বশুর বাড়ি থেকে রাত্রিবেলা বের করে দেওয়া হয়েছিল। পুজোর সময় স্বামীর ডাকেই ফের ফিরে যান। আবারও থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সমস্যা কমেনি। ৩১ ডিসেম্বর রাতেও প্রবাহকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে কথা শোনেন বলেই জানান দেবলীনা। তিনি এদিন এও বলেন যবে থেকে তাঁকে শ্বশুর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তবে থেকেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যেদিন বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল সেদিন থেকেই টার্গেট করছিলাম মরব বলে। গাড়ির তলায় ঝাঁপ দিলাম, ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিলাম এগুলো আমি ভয় পাই। আমি আসলে মরতে ভয় পাই।" 

দেবলীনা নন্দীকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন আত্মহত্যার বদলে ডিভোর্স দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। তবে গায়িকা জানান তিনি সম্পর্ক ভাঙতে চাননি। একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। দেবলীনার কথায়, "আমি ভাঙতে ভালবাসি না। যদি আমি কাউকে ধরি, ধরে রাখতে ভালবাসি। তাতে যদি আমাকে মরতে হয় আমি মরে যাব। কিন্তু আমি সংসার ভাঙতে চাই, মানুষটাকে আমি ছাড়তে চাই না। শেষ মুহূর্তে অবধি মানিয়ে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। বাচ্চা চেয়েছি। দুই পরিবারকে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। প্রবাহকে প্রচণ্ড ভালবাসি।" 

দেবলীনা এদিন লাইভে জানান তিনি ৪ পাতা ঘুমের ওষুধ খান। তারপর সেই পাতাগুলোর ছবি অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে পাঠান। তখন সায়ক একে তাঁকে ফোনাফুনি করে সাঁতরাগাছির একটি হাসপাতালে ওঁকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে যাঁরা সায়ককে কটাক্ষ করছেন ঘর ভাঙানি বলে তাঁদেরও পাল্টা জবাব দেন দেবলীনা। তিনি সাফ সাফ বলেন, "সায়ক আমার ভাল বন্ধু। ভীষণই ভাল বন্ধু। ওকে ভাই বলে ডাকি। প্রবাহ কোনও দিন আমার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করেনি। কিন্তু কিছু মানুষ সেটা করছ। সায়ককে টানছ, তারা এটা করো না। ও দায়িত্ব নিয়ে আমাকে বাঁচানোর জন্য একে তাকে ফোন করে। এরপর থেকে ও আর কাউকে বাঁচাবে না। ভয় পাবে।" 

কেবল সায়ককে করা ট্রোল নয়, তাঁরা ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরও দেবলীনার বেঁচে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদেরও জবাব দেন। বলেন, "মানসিক ভাবে যে ভেঙে পড়েছে তাকে তোমরা আরও ভাঙছ।" 
দেবলীনা জানান, এত কিছুর পরও তিনি তাঁর স্বামীর অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সব জেনেও প্রবাহ তাঁকে দেখতে আসা তো দূর, ফোন পর্যন্ত করেননি। দেবলীনার কথায়, "আমি এখনও এখানে বসে আছি অপেক্ষা করছি যদি একবার প্রবাহ আসে। একবার জিজ্ঞেস করে আমি কেমন আছি, জানতে চাইবে । কিন্তু সেটা করবে না ও। প্রবাহর কাছে ভালবাসা ম্যাটার করে না।"