শুক্রবার মুম্বইয়ের একটি আদালত পরিচালক অভিনব কাশ্যপকে সাময়িকভাবে অভিনেতা সলমন খান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা বা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিকর বা হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে।
সলমন আদালতে জানিয়েছেন, অভিনব কাশ্যপের তোলা অভিযোগ ও মন্তব্যে তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। এই মামলার শুনানিতে বিচারক পি জি ভোসলে কাশ্যপ অভিনব এবং আরও দু’জনের বিরুদ্ধে অ্যাড-ইন্টারিম একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিনেতার দায়ের করা মানহানির মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেওয়ানি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিনব কাশ্যপ ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন সলমন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত ২৬টি ভিডিও সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টের জেরেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই ভিডিওগুলিতে সলমন ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে ‘কুৎসিত, মিথ্যা ও গুরুতরভাবে মানহানিকর’ মন্তব্য করেছেন অভিনব। পরিচালকের পাশাপাশি খুশবু হাজারে এবং কয়েকটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও এই মামলা করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত ভিডিওগুলিতে সলমনের পেশাগত সততা, ব্যক্তিগত চরিত্র এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ যে, অভিনবের পক্ষ থেকে খান পরিবারকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ ও ‘জিহাদি ইকোসিস্টেম’এর অংশ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সলমনের চেহারা, বয়স ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং তাঁকে কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সলমনের বাবা সেলিম খান এবং ভাই আরবাজ খান ও সোহেল খানের বিরুদ্ধেও নির্দিষ্ট কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট প্রদীপ গান্ধীর মাধ্যমে দায়ের করা মামলায় আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে অভিযুক্তদের ভবিষ্যতে কোনও মানহানিকর বিষয়বস্তু বা সাক্ষাৎকার প্রকাশ থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা হয়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে অবিলম্বে বিতর্কিত কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
সলমন জরুরি ইন্টেরিম রিলিফেরজন্যও আদালতের দ্বারস্থ হন। সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টে দেওয়া অভিনবের বক্তব্য খতিয়ে দেখে আদালত মন্তব্য করেছে, সেগুলি প্রাথমিকভাবে ‘মানহানিকর, অবমাননাকর, কুরুচিকর ও অপমানজনক’। এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের চোখে অভিনেতাক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলে আদালত জানায়।
আদালত আরও স্পষ্ট করে বলে, অভিযুক্তদের বক্তব্যে সলমনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কেউই কারও পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করতে পারে না বা করা উচিত নয়।” প্রত্যেক ব্যক্তিরই তাঁর গোপনীয়তা ও সম্মান রক্ষার অধিকার রয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আদালত জানায়, এই অধিকার মানে এই নয় যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিকর বা হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত অনুভব ও অন্যান্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সলমন বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও মানহানিকর বক্তব্য, মন্তব্য, পোস্ট, ভিডিও, সাক্ষাৎকার বা অন্য কোনও ধরনের কনটেন্ট তৈরি, আপলোড, প্রকাশ বা পুনঃপ্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
