দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় তাঁর একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। তার আগে এই খবর শুনে কী প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রী, পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের।
তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন নিয়ে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন 'নির্বাসিত'। সেই নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে 'লজ্জা' লেখিকা শহরে আসতে চলেছেন, আর এই খবর শুনেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন চূর্ণী। বললেন, "বিশাল বড় খবর এটা। শুনেই আমার বুক ধড়ফড় করে উঠল। অসাধারণ। এটাই কলকাতা। কলকাতার চরিত্র এটা। আমরা মানুষকে সবসময় স্বাগত জানাই। বাংলার মানুষ সবসময় বাংলায় থাকবে। তিনি তাঁর ভাষাভাষীর মানুষের কাছে থাকবেন। এটা খুব বড় ব্যাপার।"
'নির্বাসিত' ছবির শুটিং করার স্মৃতি হাতড়ে অভিনেত্রী, পরিচালক বলেন, "আমি যখন 'নির্বাসিত' করার সময় তাসলিমা দিদির কাছে গিয়ে থাকতাম, তখন উনি বলতেন আমি আমার ভাষা বলার, শোনার লোক পাই না সবসময়। যেখানে আমার ভাষার চর্চা হয়, ভাষা ইভলভ হয়, সেখানে থাকতে পারি না। ভাষাও তো প্রতি নিয়ত বদলাতে থাকে। এই না থাকতে পারা ওঁকে বেদনা দিত। ওঁকে যখন এখান থেকে চলে যেতে হয়, সেটা আমাদের অনেককেই ব্যথিত করেছিল। ওই কারণেই ছবিটা বানাই। সেই সময় জয় গোস্বামী বলেছিলেন, 'চূর্ণী কলকাতাকে গ্লানি মুক্ত করল এই ছবিতে বানিয়ে।' সত্যিই তো, ওই ছবিটা শ্রদ্ধার্ঘ্য ছিল। তবে, উনি তো ফিরবেন, কিন্তু মিনু তো আর ফিরবে না। মিনু তো চলে গেল।"
'নির্বাসিত' দেখে কী প্রতিক্রিয়া ছিল তসলিমা নাসরিনের? চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "ওঁর প্রশংসা অন্যরকম ছিল। আমার মনে আছে, ওঁর বাড়িতে বসে যখন দেখছি ছবিটা, তখন ইস্ত্রিওয়ালা কাপড় দিতে এসেছিলেন। তাঁকে, উনি বলেছিলেন, 'আমি এখন কিচ্ছু নিতে চাই না। উঠে যেতে চাই না।' সেরকম ভাবেই ইনভলভ হয়ে উনি ছবিটা দেখেছিলেন। ছবিটা তো মেটাফরিক্যালি ট্রিট করা হয়েছিল, যেন মিনু বাঘিনী। তসলিমাও বাঘিনী। মিনুকে নিয়ে কী করা হবে, এখানকার সরকার, উচ্চপদস্থ অফিসাররা বুঝতেই পারছেন না। ঠিক সেরকম অবস্থা তো ওঁর হয়েছিল।"
তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন নিয়ে ছবি বানিয়েছিলেন, এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়েও কি ছবি বানাবেন চূর্ণী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "উনি যে ফিরছেন, সেটা ফিরে আসছেন, না কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন সেটা জানি না। কিন্তু উনি যদি নিজের ইচ্ছায় থাকতে চান, তাহলে সেটা আমি এবং আমার মতো মানুষেরা দারুণ ভাবে ওয়েলকাম করবে। ছবি বানাব কিনা সেটা ভাবতে হবে। ওঁর জীবনের সব কিছু তো ছবির কন্টেন্ট হিসেবে দেখলে হবে না। মানুষের জীবন, কষ্টটা তো বুঝতে হবে। ওঁর ইচ্ছে, অনিচ্ছার দাম আছে। এত বছর সরিয়ে রাখা হয়েছে, ওঁর তো মনে হতেই পারে, 'থাক আমি আর ফিরব না'। কিন্তু সেরকম যদি অবস্থা হয় সেটা আমাদের জন্য একটা বিশাল বড় জয় হবে। বাংলার জয় এটা। একজন নারী, এই শহরের নাগরিক হিসেবে খুব খুশি। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি।"
লেখিকার সঙ্গে দেখা করবেন? চূর্ণীর কথায়, "যদি উনি এসে অনুষ্ঠান করে ফিরে চলে যান, তাহলে হয়তো দেখা করার সুযোগ থাকবে না। যদি থাকেন, তাহলে দেখা করার ইচ্ছে রইল। উনি কতবার বলেছেন দিল্লি যেতে, ওঁর সঙ্গে গিয়ে থাকতে, কিন্তু সেটা আমার হয়ে ওঠেনি। আমার ওঁর সঙ্গে দেখা করার খুব ইচ্ছে আছে।"
















