কাঁটাতারের বিভাজন বারবার রাজনৈতিক মানচিত্রে রেখা টেনেছে, কিন্তু সিনেমা সেই সীমারেখা অতিক্রম করে দুই বাংলাকে একসূত্রে বেঁধেছে বহুবার। এই সেতুবন্ধনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মুখ রায়হান রাফী। মঙ্গলবার ৪৭ বছরে পা দিলেন বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় নির্মাতা।

বাণিজ্যিক ঘরানার ছবিতে তাঁর সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’ এবং ‘তুফান’—পরপর তিনটি ছবিই বাংলাদেশের বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। মূলধারার বিনোদনকে গুরুত্ব দিলেও গল্প বলার নিজস্ব ভঙ্গিতে তিনি তৈরি করেছেন আলাদা দর্শকসমাজ।

রাফীর ছবিতে নিয়মিত কাজ করেছেন পদ্মাপাড়ের প্রথম সারির তারকারা। শাকিব খান, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো—একাধিক জনপ্রিয় মুখ তাঁর পরিচালনায় পর্দায় উঠে এসেছে নতুন মাত্রায়। এমনকি টলিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী-ও কাজ করেছেন তাঁর ছবিতে। ফলে দুই বাংলার শিল্পী আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও রাফীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি হাতে আঁকা প্রতিকৃতি পোস্ট করেন চঞ্চল চৌধুরী। সঙ্গে ছিল এক খোলা চিঠি, যেখানে রাফীর ছবির নাম জুড়ে তৈরি করা হয় শব্দের খেলা। ‘দামাল’, ‘দহন’, ‘পোড়ামন’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘প্রেশার কুকার’, ‘পরাণ’, ‘জানোয়ার’, ‘আমলনামা’, ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’, ‘আন্ধার’—নিজের কাজগুলোকেই যেন মজার ছলে ফিরিয়ে দিলেন নির্মাতার উদ্দেশে।

 

চিঠির ভাষা ছিল রসিক, কিন্তু বার্তা গভীর। প্রতিযোগিতার ঝড় বইবে, লড়াই চলবে, তবু আলো পেরিয়ে টিকে থাকতে হবে সিনেমার ময়দানে। সেই শুভকামনাতেই ভিজেছে নেটপাড়া। তাই তো চঞ্চল লিখলেন, 
“তোমার জীবনে প্রতিযোগিতার “তুফান” বইবে,”তান্ডব” হবে প্রতি মুহূর্তে!
তুমি যেন “আন্ধার” পেরিয়ে,বহাল তবিয়তে টিকে থাকো সিনেমার লড়াইয়ে…….
শুভ জন্মদিন জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাতা রায়হান রাফী….
অনেক অনেক ভালোবাসা।”

 

রায়হান রাফীর যাত্রাপথ প্রমাণ করে, বাণিজ্যিক ছবিও হতে পারে সাংস্কৃতিক সেতু। কাঁটাতারের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শককে একসঙ্গে হাসানো-কাঁদানোর ক্ষমতাই হয়তো তাঁর আসল সাফল্য।