যশরাজ ফিল্মসের জনপ্রিয় 'মর্দানি' ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবিতে আরও একবার শক্ত হাতে আইন সামলাতে ফিরছেন রানি মুখোপাধ্যায়। এসিপি শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে তাঁকে আগেও দেখা গিয়েছে একাধিক ভয়ঙ্কর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তবে ‘মর্দানি ৩’-এ তাঁর সামনে যে চ্যালেঞ্জ, তা আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে যেতে চলেছে।ছবির ট্রেলার থেকেই স্পষ্ট, এবারের অভিযানে শিবানী তদন্ত করছেন নিখোঁজ শিশুদের একটি ভয়ঙ্কর মামলার। সমবয়সি একাধিক কিশোরী রহস্যজনকভাবে অপহৃত হচ্ছে।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর মানবপাচার চক্রের শিউরে ওঠা অস্তিত্ব। আর সেই চক্রের মাথায় রয়েছে এক রহস্যময় ও নির্মম নারী। নাম, ‘আম্মা’। এই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয় ধরানো খলনায়কের চরিত্রেই দেখা যাবে অভিনেত্রী মল্লিকা প্রসাদকে।

 

ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই মাল্লিকা প্রসাদকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। খুব কম সময়ের উপস্থিতিতেই তাঁর চরিত্র দর্শকের মনে কৌতূহল ও আতঙ্ক দুটোই তৈরি করেছে। শিশুপাচার চক্রের মাথা হিসেবে তাঁর অভিনয় কতটা ভয়ঙ্কর হতে চলেছে, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা। প্রসঙ্গত, ঠিক এরকম একটি চরিত্রে বহু বছর আগেই দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। বাংলা ধারাবাহিকের নাম? মা। এবং সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয় চরিত্রটির নাম ছিল হীরা আম্মা। সেই সময়ে বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরের এমন কোনও শিশু ছিল না, যাঁদের এই নাম দেখিয়ে ভয় পাওয়ানো হতো না। পর্দার বাইরেও এতটাই ছিল হীরা আম্মা চরিত্রটির দাপট! সুতরাং, হীরা আম্মার চোখে আম্মা-কে কেমন লাগছে, তা জানার জন্যেই যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন। 

 


২০০৯ সালের মা ধারাবাহিকের হীরা আম্মাকে এখনও মনে রেখেছেন দর্শকেরা, অভিনেত্রী সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও এই চরিত্র খুব কাছের। তাঁর জীবনের অন্যতম মাইলস্টোন বলা যেতে পারে।  ফনের অন্য প্রান্ত থেকে এই প্রতিবেদককে সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “হ্যাঁ, মর্দানি ৩-র ট্রেলার দেখেছি। সত্যি বলতে কি, মল্লিকা প্রসাদ অভিনীত আম্মা চরিত্রটি দেখামাত্রই আমার হীরা আম্মার কথা মনে হয়েছিল। প্রথম ঝলকেই! তারপরেই মনে হয়েছিল, ইস ওই চরিত্রটিতে যদি আমি অভিনয়ের সুযোগ পেতাম। ” 

 

সামান্য থেমে অভিনেত্রী আরও বলে চললেন, “মল্লিকা প্রসাদকে অদ্ভুতভাবে ওই চরিত্রে মানিয়ে গিয়েছে। আনকনভেনশল লুক বেশ...আমার তো বেশ লাগছে। আসলে, ধূসর চরিত্রে অভিনয় করার মধ্যে না একটা চ্যালেঞ্জ আছে। ঝুঁকি আছে খুব কিন্তু অন্যরকম অ্যাড্রিনালিন রাশ-ও আছে। দর্শক ভয় পাচ্ছেন, শিউরে উঠছে মানে ওটাই এই চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরস্কার। আমি কিন্তু ছবিটা দেখার অপেক্ষায় আছি।”

 

 

হালকা চালে প্রশ্ন ছিল, এখন তো মাল্টিভার্সের  যুগ। তাই কোনও পরিস্থিতিতে যদি হীরা আম্মা আর আম্মার মুখোমুখি দেখা হয়ে যায় তাহলে কী হবে? প্রশ্ন শোনার পর বেশ খানিকটা নিঃশব্দতা। তারপর কাটা, কাটা ভাবে ভেসে এল –“জমিয়ে টক্কর হবে।” তারপরেই হেসে উঠলেন সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসির রেশ রেখে বললেন, “তবে একটা কথা বলতে পারি, এখনও পর্যন্ত ছবির ঝলক দেখে মনে হয়েছে নিষ্ঠুরতায় এগিয়ে থাকবেন ‘আম্মা’। আর মানবিকতায় কিন্তু ‘হীরা আম্মা’। কারণ ‘মা’ ধারাবাহিকের শেষে ‘হীরা আম্মা’ কিন্তু ‘মা’-য় পরিণত হয়েছিল।  যদিও আবার বলছি, ‘আম্মা’-র পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হবে তা আমরা কেউ জানি না, ওঁর ব্যাক স্টোরি-টাই বা কী সেটাও অজানা এখনও আমাদের কাছে।”