গত রবিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আশা ভোঁসলে। চিকিৎসক ড.প্রতীত সামদানি এই প্রবীণ শিল্পীর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছিলেন। শনিবার, ১১ এপ্রিল দুপুরের দিকে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান এই গায়িকা। তড়িঘড়ি তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হল না। ১২ এপ্রিল সকালে সুরের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘আশা তাই’। লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি এবং মুকেশ—যে কণ্ঠস্বরগুলো গত অর্ধশতাব্দী ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাঁদের মধ্যে শেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রদীপের আলো ধরে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার সকালে মুম্বইয়ের আকাশে শোকের মেঘ ঘনিয়ে এল। চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন ‘আশা তাই’। আর তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গেই ভারতীয় সঙ্গীতের সেই অবিস্মরণীয় স্বর্ণযুগের ওপর চিরতরে পর্দা নেমে এল।
লতা মঙ্গেশকরের পর এবার আশা তাই-এর চলে যাওয়া যেন এক যুগের অবসান। শোকাতুর শিল্পমহল থেকে সাধারণ মানুষ। এই শোকের আবহেই আশা তাই-এর সঙ্গে কাটানো এক মায়াবী সন্ধ্যার স্মৃতিচারণায় ডুব দিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। তাঁর পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘বেগম জান’-এ আশার কণ্ঠ এবং যশরাজ স্টুডিওতে কাটানো সেই চার ঘণ্টার ‘আড্ডা’ আজ সৃজিতের কাছে এক অমূল্য সম্পদ। সৃজিত মুখার্জি তাঁর শোকবার্তায় জানিয়েছেন, ‘বেগম জান’ ছবিতে আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজ করতে পারা তাঁর কাছে ছিল এক চরম সৌভাগ্য। যশরাজ স্টুডিওতে সেই রেকর্ডিংয়ের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, “এটা এতটাই অকল্পনীয় ছিল যে আমার শৈশবের স্বপ্নও কোনওদিন এতদূর পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু চমৎকার তো সত্যিই ঘটে!” রেকর্ডিংয়ের সেই দিনটিতে কেবল গান নয়, চার ঘণ্টা ধরে কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন সৃজিত, যার কিছু অংশ তিনি রেকর্ডও করে রেখেছিলেন।
















