টলিউডে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যু আর তা নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য এবার চরম মোড় নিল। ম্যাজিক মোমেন্টস প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের সংঘাত এখন স্রেফ বাকবিতণ্ডায় সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছেছে এফআইআর এবং আইনি লড়াইয়ের দোরগোড়ায়।
আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের জন্য জারি করা এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কাছে কিছু জরুরি প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থা কোনও সদুত্তর দেয়নি। উল্টে তারা শুধু আইনি পথে কথা বলার কথা জানিয়েছে।প্রযোজনা সংস্থার এই অনমনীয় মনোভাব দেখে ফোরামের সদস্যরা একত্রিত হয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাহুলের মৃত্যুর কারণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শিল্পীরা জানিয়েছেন, এটি কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, বরং বন্ধু ও সহকর্মীর বিচার পাওয়ার লড়াই।
মানুষের মনে যাতে ভুল ধারণা তৈরি না হয়, তাই ফোরাম স্পষ্ট করেছে যে তারা নিরুপায় হয়েই এই অসহযোগিতার পথে হেঁটেছে। এই মুহূর্তে তদন্তের খাতিরে সব নথি প্রকাশ করা না হলেও, ভবিষ্যতে সদস্যদের সব জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

টলিউডের অন্দরের এই লড়াই এখন আর শুধু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি থানা-পুলিশে গড়িয়েছে। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ কি এবার মুখ খুলবে? না কি আইনি লড়াই আরও জটিল হবে? টলিপাড়ার নজরে এখন সেটাই।
অন্যদিকে, প্রশ্ন উঠেছে টলিউডের ‘পাওয়ার পলিটিক্স’-এ কি বড়সড় পালাবদল ঘটল? ফেডারেশন বনাম ডিরেক্টরস গিল্ডের যে লড়াই আদালত অবধি গড়িয়েছিল, অভিনেতা-সাংসদ দেব-এর এক ডাকেই তা যেন জাদুর মতো সমাধান হয়ে গেল। স্রেফ ৭২ ঘণ্টায় মামলা তুলে নিল ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন। টলিপাড়ায় যখন ‘ব্যান’ আর ‘মামলা’ নিয়ে চরম অস্থিরতা, ঠিক তখনই আসরে নামলেন দেব। কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-তে পরিচালকদের দায়ের করা মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর সেই অনুরোধের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মামলা তুলে নেওয়ায় খুশির হাওয়া স্টুডিও পাড়ায়।সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেব লিখলেন, "সিনেমা বাঁচে একতা আর শ্রদ্ধার ওপর। আমি বিশ্বাস করি ইন্ডাস্ট্রিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব, দাবি ‘প্রজাপতি ২’ ছবির নায়কের। ।তাহলে কি টলিপাড়ায় শেষ হল ব্যান সংস্কৃতি? সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দেব সরাসরি ‘ব্যান’ বা বয়কটের সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এবার এই নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং সম্মিলিতভাবে আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।
















