কান, সিডনি, বুশান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরে রবিবার ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনুরাগ কাশ্যপ এবং তাঁর ছবি ‘কেনেডি’। ‘গ্যাং অফ ওয়াশেপুর’-এর পরিচালক প্রত্যেক উৎসব মঞ্চ থেকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ পেয়েছেন। কলকাতায় তাঁর জন্য কি বিশেষ মুহূর্ত অপেক্ষা করছে? জানেন না পরিচালক। তাই নিয়ে মাথাব্যথাও নেই। নন্দন উত্তাল তাঁকে এক ঝলক দেখবে বলে। অনুরাগ কেনেডির প্রিমিয়ারের আগে ছবি নিয়ে বেশি কথাই বললেন না! তার যুক্তিও দেখিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক পরিচালক নিজের ছবির গুণগান গাইবেন। তার থেকে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা তৈরি হবে। তার চেয়ে আপনারা নিজেরাই দেখুন। দেখে মতামত দিন। ভাল লাগবে।’’ অনুরাগের সঙ্গে শহরে উপস্থিত আরও এক খ্যাতিমান পরিচালক সুধীর মিশ্র। তিনি কিন্তু প্রচারের দায়িত্ব নিজে থেকে কাঁধে তুলে নিলেন। সাফ বললেন, ‘‘উৎসবে ছবি হাউজফুল হবেই। কারণ, বিনামূল্যে দেখা যায়। আমার অনুরোধ, আপনারা টিকিট কেটে ছবি দেখুন। এতে অনুরাগের উপকার হবে। আমি কিন্তু তিন বার ছবিটি দেখে ফেলেছি। প্রত্যেক বার আলাদা মনে হয়েছে।’’ 
   
এতটাই ব্যতিক্রমী অনুরাগ। তাঁর বেড়ে ওঠায় কোনও লড়াই নেই। তিনি নিজে তাই ছবি বানানোর ক্ষেত্রে ‘স্ট্রাগল’ শব্দটাকে আপন করে নিয়েছেন। জেদ, অন্যরকম ছবি বানাবেন। তারই জ্বলন্ত উদাহরণ, ‘দেব ডি’, ‘মনমর্জিয়া’, ‘দোবারা’। এই জেদের কারণেই তাঁর প্রথম ছবি ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ মুক্তির আলোই দেখল না কোনও দিন। তাই নিয়ে আর তাঁর কোনও দুঃখ নেই। কারণ, তিনি সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ছবি বানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বাধা ছিল সেন্সরের ছাড়পত্র। যা নিয়ে আজও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো সোচ্চার। অনুরাগের এক্ষেত্রে সাফ জবাব, ‘‘আমি সেন্সরের ঘোর বিরোধী। নিজের হাত পুড়িয়ে পোড়ার জ্বালা অনুভব করার মানসিকতা আমার। যা আপনা থেকেই আগুন থেকে আমায় দূরে রাখবে।’’ একই কারণে তিনি কোনও দিন সেন্সর বোর্ডের সদস্য হবেন না। তিনি থাকলে সমস্ত ছবিই ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। পাশাপাশি এও জানান, বোর্ডের চার কর্তাও কিন্তু প্রচণ্ড ভয়ে থাকেন। কারণ, তাঁরা এগোলেও সমালোচনা, পিছোলেও।



পাশাপাশি, ছবিতে তারকাদের দিয়ে অভিনয় করানো নিয়েও আপত্তি তাঁর। অনুরাগ জানেন, তারকাদের দিয়ে অভিনয় মানেই তাঁদের অনুরাগীদের পছন্দসই ছবি বানাতে হবে তাঁকে। যা তিনি একেবারেই পারবেন না। তাই বিতর্কিত ছবি ‘অ্যানিমেল’-এর নায়ক রণবীর কাপুর প্রিয় হলেও কোনও দিন তাঁর ছবির নায়ক হবেন না। এই ভাবনা থেকেই সুধীর মিশ্রর জন্য ২০ বছর আগে লেখা বাতিল চিত্রনাট্য থেকে ২০২৩-এ ‘কেনেডি’ বানালেন। এবং সেই ছবিতে সানি লিওনি, রাহুল ভাট। প্রযোজনায় রঞ্জন সিং, কবীর আহুজা। পরিচালকের সঙ্গে সাধারণত নায়িকার রসায়ন তৈরি হয়। ব্যতিক্রম অনুরাগ। তাঁর সঙ্গে নায়ক রাহুলের জমাটি কেমিস্ট্রি! তাই ‘আগলি’, ‘দোবারা’র পরে আবারও এই ছবিতে তিনি। গুগলে অনুরাগ কাশ্যপ লিখে খুঁজলেই দেখায়, বহুল চর্চিত, গ্ল্যামারাস পরিচালক। সত্যিই তিনি তাই? শুনে হেসে ফেলেছেন পরিচালক। জানিয়েছেন, তিনি ভীষণ সাদামাঠ। লোকের ভিড়, অনুরাগীদের সঙ্গে সেলফি তোলা থেকে দূরে। সবার পিছনে হাঁটতে ভালবাসেন। বরং লোকে তাঁর ছবি দলবেঁধে দেখতে গেলেন বেশি খুশি হন।  

ছবি: বিপ্লব মৈত্র