অঞ্জন দত্ত। নামটাই যথেষ্ট। তিনি গান গাইলে গিটারের তারে ঝড় ওঠে, সিনেমা বানালে মধ্যবিত্ত মনস্তত্ত্বের কাটাছেঁড়া হয়, আর তিনি থিয়েটারের মঞ্চে নামলে জন্ম নেয় নতুন কোনত্ত বিপ্লব। গত কয়েক বছর ধরে গান আর সিনেমার পাশাপাশি থিয়েটার নিয়ে তুমুল মেতে রয়েছেন অঞ্জন। কখনো প্রযোজনা, কখনও পরিচালনা, আবার কখনো নিজেই মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন অভিনয়ে। থিয়েটার নিয়ে নিজের নানা ভাবনা মাঝেমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন তিনি। তবে এবার ফেসবুকে তাঁর করা একটি পোস্ট আক্ষরিক অর্থেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে নাট্যমহলে।
কেরিয়ারের একেবারে শেষপ্রান্তে এসে নিজের ‘ব্যর্থতা’ এবং থিয়েটারের ‘অজনপ্রিয়তা’ নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি করার পাশাপাশি এক মহাকাব্যিক প্রজেক্টের ইঙ্গিত দিলেন পরিচালক।
ফেসবুক পোস্টে নিজের ক্ষোভ আর গর্বের এক অদ্ভুত মিশেল ঘটিয়ে অঞ্জন দত্ত লিখেছেন, “আমি জঁ জ্যনে (Jean Genet), পিটার ওয়েসের (Peter Weiss) মতো নাট্যকারদের নাটক প্রযোজনা করেছি, যখন বাংলা থিয়েটারে কেউ ওদের নাম পর্যন্ত জানত না। এরপর আমি ট্যাঙ্ক্রেড ডর্স্ট, জর্জ বুচনার, ফ্রাঞ্জ হাভিয়ের কোয়েটজ, হেইনার মুলারের মতো বিশ্বখ্যাত নাট্যকারদের টেক্সট নিয়ে কাজ করেছি। কলকাতায় বাংলায় এদের কাজকে আমি মঞ্চে জীবন্ত করে তুলেছিলাম। এদের মধ্যে তিনজনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম এবং তাঁরা বাংলায় আমার তৈরি নাটক পছন্দও করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার থিয়েটার চিরকাল জনপ্রিয় হল না...”
অঞ্জন দত্তের মতে, থিয়েটারের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে কখনও কখনও নতুন করে খতিয়ে দেখা উচিত, যদি সেটি কোনও মহান লেখকের কলম থেকে বের হয়। আর ঠিক এই জেদ থেকেই সত্তরোর্ধ্ব অঞ্জন আবার ফিরছেন মঞ্চে।
নাট্যপ্রেমীদের চমকে দিয়ে অঞ্জন লিখেছেন, “আমার কেরিয়ারের এই শেষলগ্নে এসে আমি আমেরিকার অন্যতম সেরা এক ঔপন্যাসিকের একটি হারিয়ে যাওয়া নাটক বা ‘নাটকের মতো কিছু একটা’ নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করতে চাই। যিনি থিয়েটারকে মন থেকে ভালবাসলেও নাট্যকার হিসেবে কখনও স্বীকৃতি পাননি। দেখা যাক থিয়েটার নিয়ে আমি আর কতদূর যেতে পারি। আমি খুঁজে বের করতে চাই থিয়েটারের আসল ক্ষমতা ঠিক কী!”
কার সেই হারিয়ে যাওয়া নাটক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চলেছেন অঞ্জন দত্ত? হেমিংওয়ে, ফিটজেরাল্ড নাকি অন্য কেউ? সেই রহস্য অবশ্য জিইয়ে রেখেছেন তিনি। তবে অঞ্জনের এই ঘোষণা যে কলকাতার নাট্যজগতে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।















