টলিউডের আকাশে শোকের মেঘ আরও ঘনীভূত। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল এক অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং রেখে গিয়েছে একরাশ অমীমাংসিত প্রশ্ন। চিত্রনাট্যে যা ছিল না, সেই ‘অঘটন’ কেন ঘটল? ইতিমধ্যে টালিগঞ্জের বড় অংশ পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে। অনেকে আবার চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজনা সংস্থার তরফে রাহুলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যেন টলিউডের অন্দরে লুকিয়ে থাকা সমস্ত ক্ষোভের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যু টলিউডের অন্দরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে, তাতে এবার যুক্ত হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। স্মৃতিচারণা নয়, বরং রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে যে ‘হতাশা’ এবং ‘দায় ঝেড়ে ফেলার’ রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন তিনি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেন এক দগদগে ক্ষতের বয়ান, যেখানে রাহুলের স্মৃতিচারণার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ইন্ডাস্ট্রির এক নগ্ন এবং অমানবিক সত্য।শুটিং সেটের গাফিলতি আর শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড়, তখনই অনির্বাণের এই পোস্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে নেটপাড়ার বড় একটি অংশ।
অনির্বাণ সাফ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রাহুলকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করার মতো মানসিক শক্তি তাঁর নেই। তাঁর পোস্ট জুড়ে রয়েছে কেবল একরাশ হতাশা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন শুটিং সেটের গাফিলতি নিয়ে তৈরি হওয়া বয়ানের বৈপরীত্য নিয়ে। অভিনেতার কথায়, "কী সাংঘাতিক দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা, কি কঠিন মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, কি সুন্দর যুক্তি গড়ে তোলার জন্য সময় কেনা!" তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন সেই সব শক্তির দিকে, যারা রাহুলের মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে প্রযোজনা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট মহলের যে ধরণের বিবৃতি সামনে আসছে, তাকে ‘অপমান করার স্বাধীনতা’ এবং ‘ঔদ্ধত্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনির্বাণ। তাঁর মতে, রাহুলের পরিবার, অনুরাগী এবং বন্ধুরা কেবল সত্যিটা জানতে চায় এবং সঠিক বিচার চায়। কিন্তু তার বদলে যা মিলছে, তা হলো ধোঁয়াশা আর সত্যকে চাপা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা।

ইতিমধ্যেই টালিগঞ্জের বড় অংশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং রাহুলের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। চিত্রনাট্যের বাইরে গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ড্রোন শট দেওয়া এবং তার ফলে এক প্রতিভাবান শিল্পীর প্রাণ চলে যাওয়াকে টলিউড আর মুখ বুজে মেনে নিতে চাইছে না। অনির্বাণের এই পোস্ট সেই প্রতিবাদের আগুনে আরও ঘি ঢালল।রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কি তবে টলিউডের অন্দরে বড়সড় কোনও পরিবর্তনের ডাক দিয়ে গেল? অনির্বাণ চক্রবর্তীর এই ‘হতাশা’ কি শেষমেশ বিচারে পরিণত হবে? উত্তর খুঁজছে গোটা টলিপাড়া।
&t=1s
















