বিয়ে করেছেন ২০২৫ সালে, কিন্তু ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দ্বিতীয় বিয়ে এবং স্ত্রীর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বেনারসের ঘাটে রীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন। এদিন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে এখনও ডিভোর্স দেননি বলেই জানিয়েছেন অভিনেতা, বিজেপি বিধায়কের প্রথম স্ত্রী। এবার গোটা ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
এদিন মেয়ে নিয়াশা চট্টোপাধ্যায় এবং আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবী জানান, তাঁরা দুজনের নামে অর্থাৎ হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির নামে অভিযোগ জানিয়েছেন। এফআইআর নম্বর পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাবেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই ঋতিকা গিরি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন হিরণ এবং তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক, অনিন্দিতা মিথ্যে বলেছেন,হিরণ মোটেই ২০২৫ সালে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে থাকেননি। এমনকী ঋতিকার বয়স সম্পর্কেও নাকি ভুল তথ্য দিচ্ছেন অনিন্দিতা। এই অভিযোগের পর এদিন থানার বাইরে থেকেই ক্ষোভ উগরে দিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী।
অনিন্দিতা বলেন, " ও তো নিজেই স্বীকার করেছে যে ওরা বিয়ে করেছে, যেটা বেআইনি। এখান থেকে প্রমাণ হয়ে গেল। আমার মেয়ে পাশে আছে কী বলব। লজ্জা করছে, আমার স্বামী আমার সঙ্গে কতদিন ছিল কী ছিল না, সেটার ব্যাখ্যা ও দেবে? মানে বিয়েটা আমার, আমার বর আমার কাছে কতদিন ছিল সেটা ও বলবে?" তিনি এদিন সাফ জানান যেখানে থাকেন সেখানে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে তিনি প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারবেন। অনিন্দিতা বলেন, "আমি তো প্রমাণ করে দেব হিরণ কতদিন ছিল। ওর (ঋতিকা) তো কোনও কথার কোনও দাম নেই। এখন সিম্প্যাথি কার্ড খেলছে যে ও অসুস্থ। আমি আরও একটা লজিক বলি, পাঁচ বছর আগে, হিরণ এই সময় পৌঁছায়নি খড়গপুরে। ভোট কোন সময় হয়েছে? ২০২১ এ। তাহলে পাঁচ বছর তো হয়নি এখনও। ঋতিকাকে হিরণ চট্টোপাধ্যায় চিনতই না তখন। ক্যান্ডিডেট হিসেবে নির্বাচন হয়নি হাস্যকর কথা।"
হিরণের মেয়েও মুখ খোলেন এদিন বাবার বিরুদ্ধে। বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিয়াশা বাবার দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে বলেন, "মেয়ে হয়ে আর কী বলব! নিজেই কাল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেখলাম। মা আমায় ফোন করে বলল তুই একবার ফোন খুলে দেখ, তোকে কিছু পাঠিয়েছি। তখন খুলে দেখি বাবার বিয়ের ছবি। মা ফোন কর কাঁদছে। কোনও মেয়ে কী বলবে এটা দেখে? বাবা কী করছে না করছে সেটা সমাজমাধ্যম থেকে আমায় জানতে হচ্ছে। যখন অন্য বন্ধুদের বাবাকে দেখি, তখন ভাবি আমার বাবা এসব করছে। উনি বাবা, স্বামী সব হিসেবেই ব্যর্থ।"
অনিন্দিতাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ঋতিকা তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন। তার পাল্টা জবাবে এদিন অনিন্দিতা বলেন, "ডিভোর্সের নোটিশ ওভাবে পাঠানো যায় না। একটা নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী, সেটা ডিভোর্স সংক্রান্ত নয়। কোর্ট থেকে কোনও নোটিশ আসেনি। আসলেও ডিভোর্স হয়ে যায় না তাতে।"
ঋতিকার বয়স সম্পর্কে হিরণের প্রথম স্ত্রী ভুল তথ্য দিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী। সেই বিষয়ে অনিন্দিতার সাফ জবাব, "আমি তো ওর দিদি, মা কেউ না। আমায় তো হিরণ বলেছে, বাচ্চা মেয়ে, এত বয়স, আমাকে ব্ল্যাকমেল করছে, বোঝ তো...। এই কথাগুলো আমায় হিরণ বলেছে। ঋতিকা গিরি আমার আত্মীয় নয়। আমি ওর আসল বয়স কীভাবে জানব। ওর বয়সের তাহলে প্রমাণ দিক। আমি তো সব প্রমাণ নিয়ে থানায় এসেছি। এত সাহস তো ওইটুকু মেয়ে, প্রমাণ করতে বলুন। ও বিয়ের সম্পর্কে বোঝে কী? আমি ২৫ বছর কাটিয়ে এসেছি। ভাবছে মাথায় সিঁদুর পরে, একসঙ্গে থেকে, ভিয়েতনাম ঘুরেই বউ হওয়া যায়।"
নিয়াশা জানান, ঋতিকা তাঁকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি ঘনঘন আত্মহত্যা করার হুমকি দেন, দাবি অনিন্দিতা এবং তাঁর মেয়ের।
অনিন্দিতা এদিন আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর এবং হিরণের ডিভোর্স হয়ে গিয়েই থাকে তাহলে অভিনেতা কেন তাঁর এবং অনিন্দিতার নামে এই ফ্ল্যাট কিনেছেন।
