হিরণ চট্টোপাধ্যায় দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে যেন তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। অভিনেতা, বিধায়কের প্রথম স্ত্রীর দাবি তাঁকে ডিভোর্স না দিয়েই হিরণ পুনরায় বিয়ে করেছেন, যা হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী অপরাধ। এরপরই তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এই বিষয়ে আগাম জামিন পেয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তারপর ফের এদিন নাম না করে স্বামীকে কটাক্ষ করলেন অনিন্দিতা।
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেই পোস্টে লেখা, 'পুরুষদের উদ্দেশ্যে, চোখ বন্ধ করে ভাবুন আপনার মতো কোনও পুরুষের সঙ্গে আপনারই কন্যা প্রেম করছেন। মুখে হাসি ফুটে উঠল?' এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং অনিন্দিতার এক মেয়ে রয়েছে, নিয়াসা। তাঁর বয়স ১৯। ফলে এই পোস্ট যে হিরণকে উদ্দেশ্য করেই সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঋতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন ২০২৫ সালে, কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় বিয়ে এবং স্ত্রীর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বেনারসের ঘাটে রীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন বিজেপি বিধায়ক। এদিকে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে এখনও ডিভোর্স দেননি বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াসা চটোপাধ্যায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। যার প্রেক্ষিতেই হিরণ আগাম জামিনের আবেদন করেছেন বলে খবর।
কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "মহামান্য আদালতের উপর বিশ্বাস রেখে গিয়েছিলাম, আদালত সেই বিশ্বাস রেখেছেন। যে আদেশ, নির্দেশ দিয়েছেন সেটা অবশ্যই পালন করব।" এই কেসে তাঁর কী বক্তব্য জানতে চাইলে, অভিনেতা স্পষ্টই বলেন, "মহামান্য আদালতকে যা বলার বলেছি। ওটা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নয়। এটা একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি চাই না এটা পাবলিক হোক। আমি নিজে এই বিষয়ে কথা বলিনি, বলব না। আমি যেমন আপনাদের শ্রদ্ধা করি, চাইব এই সময় আপনারাও যেন সেই শ্রদ্ধা আমার প্রতিও দেখান।"
অন্যদিকে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় রীতিমত তোপ দাগেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আজকাল ডট ইনকে বলেন, "জামিন কারা নেয়, যারা পাপ কাজ করে, তারাই নেয় না। আমি-তুমি, আমরা যারা সাধারণ ভাবে থাকি, তাদের তো জামিন নিতে লাগে না। ও প্রমাণ করে দিক না যে ও করেনি কিছু। সেটা তো পারছে না, উল্টে তাড়াতাড়ি গিয়ে পাপের বিরুদ্ধে জামিন নিতে হয়েছে। তার মানে কতটা ভয় আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ও একটা ক্রিমিনাল।"
অনিন্দিতার এদিন আরও সংযোজন, "আমার কেসের ভিত্তি আছে বলেই তো পুলিশ নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুটো ধারা দিয়েছে।"
