‘শোলে’র গব্বর নেই, ঠাকুর নেই, বীরু-জয়ের বন্ধুত্বের স্মৃতি এখন ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ ধর্মেন্দ্র আজ আর নেই। সম্প্রতি প্রয়াত এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করেই আবেগে ভেসে গেলেন অমিতাভ বচ্চন। কৌন বনেগা ক্রোড়পতি–র সাম্প্রতিক পর্বে কথা বলতে বলতে গলায় জমল আবেগ, কণ্ঠ খানিক কেঁপে উঠল ‘বিগ বি’-র। বললেন, “ধরমজি শুধু মানুষ ছিলেন না…তিনি ছিলেন এক অনুভূতি।”

 

 

 

ধর্মেন্দ্রর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ প্রসঙ্গে অমিতাভ বলেন, “ইক্কিস আমাদের জন্য শেষ এক মূল্যবান স্মৃতি। একজন শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করতে চাইতেন। আমার বন্ধু, আমার পরিবারের মানুষ, আমার আইডল ধর্মেন্দ্র তাই-ই করে গিয়েছেন।” এরপর আরও এক আবেগঘন হয়ে অমিতাভ বলে চলেন, “ধরমজি শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অনুভূতি। আর অনুভূতি কখনও হারায় না…সেটাই আশীর্বাদ হয়ে পথ দেখায়।”

 

 

 

‘শোলে’র শুটিংয়ের স্মৃতি টেনে আনলেন অমিতাভ। সেই ছবির শুটিংয়ের একটি ঘটনা স্মরণ করে অমিতাভ বলেন, “আমরা বেঙ্গালুরুতে শুটিং করছিলাম। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী মানুষ, যেন এক কুস্তিগীর। ছবিতে মৃত্যুর দৃশ্যে যখন আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন, সেই যন্ত্রণা কিন্তু অভিনয়ের ছিল না…সত্যিই ব্যথা অনুভব করেছিলাম, তাই দৃশ্যটা এত বাস্তব লেগেছিল।”

 

 


কেবিসি-র এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন ‘ইক্কিস’ ছবির পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনও। তিনি বললেন, “আমি অত্যন্ত ধন্য, ওঁর শেষ ছবিতে ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ধরমজি তাঁর শেষ অভিনয়েও অসাধারণ ছিলেন।”

 

প্রসঙ্গত, ‘ইক্কিস’ নির্মিত হয়েছে ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের বীর তরুণ অফিসার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপালের জীবনের ওপর। যিনি দেশের জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দেন এবং সম্মান পান পরমবীর চক্র-র।

 

'ইক্কিস' ছবিতে অগস্ত্য নন্দা অভিনয় করছেন অরুণ ক্ষেত্রপালের ভূমিকায়, সিমর ভাটিয়া রয়েছেন কিরণ চরিত্রে,ধর্মেন্দ্র অভিনয় করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এম.এল. ক্ষেত্রপাল, অর্থাৎ শহীদ পুত্রের বাবার চরিত্রে।  এছাড়াও রয়েছেন জয়দীপ আহলাওয়াত, সুহাসিনি মুলি, সিকান্দর খের, রাহুল দেব ও ভিভান শাহ।