সঞ্জয় লীলা বনশালির পরিচালনায় তাঁর আগামী ছবি 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'-এ দেখা যেতে চলেছে অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে। আলিয়ার সঙ্গে ওই ছবিতে দেখা যাবে বলিপাড়ার দুই নায়ক রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলকে। এই ছবির কাজ চলার মাঝেই পরিচালকের এক পুরনো সাক্ষাৎকার ভাইরাল। সেখানে বনশালি কথা বলেছিলেন আলিয়াকে নিয়ে। 

 

তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট 'ইনশাল্লাহ' বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে আলিয়া ভাট মানসিকভাবে কতটা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন যে ছবিটি আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আলিয়া শোকে ভেঙে পড়েছিলেন। খবরটা শোনা মাত্রই চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন এবং নিজেকে একপ্রকার ঘরের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছিলেন।

 

তবে এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ পরেই বনশালি আলিয়াকে 'গঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি' সিনেমার নামভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। সেই সময়ের কথা মনে করে পরিচালক বলেন যে প্রস্তাবটি শুনে আলিয়া বেশ অবাক হয়েছিলেন। তিনি পরিচালককে বলেছিলেন যে লস অ্যাঞ্জেলেসের আধুনিক একটি চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তুতি ছেড়ে হুট করে কামাঠিপুরার এক যৌনপল্লীর পতীতার চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর পক্ষে কতটা কঠিন হবে। 

 

আলিয়া তখন স্বীকার করেছিলেন যে এই চরিত্রটি সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণাই নেই। জবাবে বা
নসালি তাঁকে আশ্বস্ত করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে আলিয়া তাঁকে ভরসা করেন কি না। তিনি আলিয়াকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর চোখের মধ্যেই তিনি একজন শক্তিশালী নারীকে দেখতে পান এবং আলিয়ার ব্যক্তিত্বের সেই দৃঢ়তাকেই তিনি পর্দায় কাজে লাগাতে চান। শেষ পর্যন্ত পরিচালকের সেই আত্মবিশ্বাসই আলিয়াকে 'গঙ্গুবাই' হিসেবে তুলে ধরেন এবং ছবিটি ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখে।

বনশালির সঙ্গে কাজ করা যে কোনও অভিনেতার কাছেই স্বপ্নের মতো। আলিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘গঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’-র আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর ফের এই খ্যাতনামা পরিচালকের ফ্রেমে ধরা দিতে চলেছেন তিনি। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে এই ছবিটিকে নিজের জীবনের অন্যতম ‘মহামূল্যবান অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন মহেশ-কন্যা। আলিয়া জানান, বনশালির কাজের ধরন অত্যন্ত নিখুঁত এবং গভীর। তাঁর সেটে থাকা মানেই নতুন কিছু শেখা। অভিনেত্রীর কথায়, "ওঁর সঙ্গে কাজ করা মানে শুধু অভিনয় নয়, এটি একটি শিল্পকলার চর্চা। আমি এই মুহূর্তগুলো ভীষণভাবে উপভোগ করছি এবং প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁত করতে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"