রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক এবং রহস্যজনক মৃত্যুতে টলিউডের শোকের আবহে এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। ‘ভাই’ তুল্য সহকর্মীকে হারিয়ে এবার সরাসরি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিল্পী ফোরামের জবাবদিহি চাইলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। ওড়িশার তালসারিতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে সরব হলেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যা থেকেই তোলপাড় নেটমহল। শোকাচ্ছন্ন টলিপাড়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রায় কেউই। জানা গিয়েছে, ২৯ মার্চ রবিবার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতার! রবিবার সন্ধ্যাতেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ওড়িশার তালসারি সংলগ্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোটে চেপে ঘোরার সময় বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকের দল।

কীভাবে মৃত্যু হল রাহুলের?  মৃত্যুর কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷ সমাজমাধ্যমেও একাধিক মন্তব্যের ভিড়৷ ধারাবাহিকের পরিচালকের মতে, শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটেছে৷  কিন্তু অনেকের মতে, শুটিং শেষে প্যাক আপ হয়ে গিয়েছিল৷ ধারাবাহিকের সহ অভিনেত্রী শ্বেতা আকস্মিক দুর্ঘটনায় কিছুটা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় বার বার রাহুলের খবর জানার চেষ্টা করছেন৷ এই সময় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, আধ ঘণ্টা আগেও আমরা একসঙ্গে শুটিং করছিলাম৷ সমাজমাধ্যমে নেটিজেনদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন৷ সমুদ্র উত্তাল জেনেও কি উনি এভাবে ঝুঁকি নিয়েছিলেন নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুরক্ষার অভাব?  

   রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ তাঁর 'টুম্পাদি' তথা অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী৷ শোকাহত অবস্থায় রাহুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে গতকালই তিনি বলেছিলেন "ইন্ড্রাস্ট্রির ক্ষতি কি না জানি না হয়তো ক্ষতি, তবে আমার অনেক বড় ক্ষতি"। এরপর ফেসবুকে একটি ছোট পোস্ট করেছেন তিনি। এহেন আবহে সেই পোস্টের অভিঘাতের তীব্রতা ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে নেটপাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সদস্য হিসেবে সুদীপ্তা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন, রাহুলের মৃত্যুর পর ফোরাম ঠিক কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি জনসমক্ষেও এই দাবি তুলছেন তিনি।

সুদীপ্তা লিখেছেন, আমি সুদীপ্তা চক্রবর্তী, অভিনেতা এবং West Bengal Motion Picture Artists' Forum এর সাধারণ একজন সদস্য হিসাবে (সদস্য সংখ্যা 315) আমার সহকর্মী Rahul Arunoday Banerjee র শুটিং স্পটে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবী করছি।আমাদের ফোরাম এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও জানতে চাই।কার্যনির্বাহী কমিটির যে কজন সদস্যের যোগাযোগের নম্বর আমার কাছে ছিল, তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছি। বাকিদের এখানেই জানালাম। 
(পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)

 

 

এইমুহূর্তে অভিনেতার দেহ দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের  শুটিং চলাকালীন কোনওভাবে সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। এবং তলিয়ে যান!  তারপর দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এরপর তাঁর দেহ পাওয়া গেলে ৬টা ২০নাগাদ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।চোখের সামনেই পুরো ঘটনাটা ঘটে রাহুলের ড্রাইভার বাবলুর। রাত পোহালেও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাহুলের সারথী তিনি। আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “শুটিংয়ের সময় নায়িকার হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিন ছিল। দাদা তাই-ই করছিলেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন। টেকনিশিয়ানরা সবাই ছুটে যায় উদ্ধার করার জন্য। নায়িকাও পড়ে যান। দু'জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন দাদা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার বলেন রাস্তাতেই নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”

পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে এবং অভিনেতার দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় রবিবার-ই। আজ, সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্ত হবে।

 

 

 

&t=2069s