স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চ থেকে সরাসরি সংসদে! কৌতুকাভিনেতা-পরিচালক বীর দাসের ‘টু ইন্ডিয়াস’ বক্তব্য যেন নতুন করে ফিরে এল জাতীয় আলোচনায়। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি হঠাৎই উল্লেখ করেন বীর দাসের ২০২১ সালের সেই বহুল বিতর্কিত পারফরম্যান্সের কথা। তাঁর দাবি, সেটি কেবল মজা ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের ‘সতর্কবার্তা’। একটি ভবিষ্যদ্বাণী, যা দেশের অন্দরের দ্বন্দ্বকে আয়নার মতো সামনে ধরেছিল।
অভিষেক বলেন, “২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, হাজার মাইল দূরে কেনেডি সেন্টারের মঞ্চে বীর দাস দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। কেউ হাসল, কেউ ক্ষুব্ধ হল। কিন্তু তিনি যা বলেছিলেন, তা নিছক কমেডি ছিল না, সেটা ছিল এক সতর্কবার্তা।” নিজের বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, তিনিও নাকি সেই ‘দুই ভারত’-এর অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলছেন।
সংসদে এই প্রসঙ্গ উঠতেই বিস্মিত খোদ বীর দাস। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় প্রায় লাইন ধরে ধরে প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেকের মন্তব্যের। বিস্ময় লুকোননি মোটেই। “সংসদে? সত্যিই? এটা কি সংসদের মধ্যে হচ্ছে?” প্রশ্নের সুরেই তাঁর প্রতিক্রিয়া। কোথাও হালকা হাসি, কোথাও তীক্ষ্ণ খোঁচা - সব মিলিয়ে বীর স্পষ্টই বুঝিয়ে দেন, বিষয়টি তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত। ‘প্রফেসি’ শব্দটির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভবিষ্যদ্বাণী? আমার তো তখন মনে হয়েছিল ভাঙা কাচের টুকরোর উপর হাঁটছি!”
অবশ্য এই বিতর্কের মধ্যেই বীর ঘোষণা করেন তাঁর ‘হে স্ট্রেঞ্জার – এ ট্যুর অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর সূচি। খানিক রসিকতার সুরেই বলেন, “মনে হচ্ছে দেশ ছাড়ার এটাই উপযুক্ত সময়।” তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মত অনেকের।
অন্যদিকে, বীরের এই কাণ্ড দেখে অভিষেক ব্যানার্জিও থেমে থাকেননি। বীরের প্রতিক্রিয়া শেয়ার করে তিনি লেখেন, “দুই ভারতের সৌন্দর্য এটাই -একটিতে কমেডিয়ান প্রশ্নবিদ্ধ হন, অন্যটিতে সেই বিতর্কই হয়ে ওঠে ট্যুর ঘোষণার সেরা প্রচার। গণতন্ত্রের রসবোধ আছে।” এর পাশাপাশি বীরকে তাঁর শোয়ের ওয়ার্ল্ড ট্যুরের জন্য শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কেনেডি সেন্টারে নিজের ‘টু ইন্ডিয়াস’ বক্তব্যে দেশের বৈপরীত্য তুলে ধরেছিলেন বীর দাস। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের সমালোচনা করার অভিযোগে দেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। একাধিক অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। অভিনেতা-সাংসদ কঙ্গনা রানাউত সেই সময় ইনস্টাগ্রামে তাঁর বক্তব্যকে ‘নরম সন্ত্রাসবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ট্রোলিং, শো বাতিল -সব মিলিয়ে সেই সময়ে ব্যাপক চাপে পড়েছিলেন বীর। তবে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি তিনি।
&t=313s
এর মধ্যেই চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তাঁর পরিচালিত ও অভিনীত ছবি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’। বিতর্ক, রাজনীতি, রসিকতা -সব মিলিয়ে বীর দাস যেন আবারও প্রমাণ করলেন, কমেডি কখনও কখনও কেবল হাসির বিষয় থাকে না, তা হয়ে ওঠে সময়ের আয়না।
