অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক গান থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই সঙ্গীত জগৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন গায়ক অভিজিৎ সাওয়ান্ত। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ইন্ডিয়ান আইডলের প্রথম সিজনের বিজয়ী দাবি করেছেন, বলিউডে গায়কদের নিয়মিতভাবেই শোষণ করা হয় এবং তাঁদের পারিশ্রমিকও ন্যায্য নয়।
ছবির গানে পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিজিৎ বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ চায় না গায়ক ছবির চেয়েও বড় হয়ে উঠুক। সেই কারণেই একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের মধ্যেই আমাদের পারিশ্রমিক বেঁধে দেওয়া হয়। আজও ছবির গানের জন্য গায়কদের রয়্যালটি দেওয়া হয় না। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, বিড্ডু ‘লাফজোঁ মে’ গানের পাশাপাশি পশ্চিমে মাত্র দু’টি গান করেছিলেন, আর সেই দু’টি গান থেকেই যে পরিমাণ রয়্যালটি তিনি পান, তাতে সারাজীবন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারেন। আমরা কিন্তু আমাদের জীবিকা নির্বাহের মতো টাকাও পাই না।”
তিনি আরও বলেন, “পুরো ব্যবস্থাটাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। গায়করাও অনেক সময় সুযোগের লোভে নিজেরাই আপস করে নেন। তাঁদের মনে হয়, ‘এই গানটা যদি আমার কণ্ঠে মুক্তি পায়, আর কোনও বড় তারকা যদি তাতে লিপ-সিঙ্ক করেন, তাহলে এই গানটাই আমাকে সারাজীবন বাঁচিয়ে দেবে।’ তাই অনেক সময় গায়করা টাকা চাইতেও চান না। শুধু গানটা গাওয়ার সুযোগ বা কোনও নির্দিষ্ট প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহেই আমাদের যা দেওয়া হয়, সেটাই মেনে নিই। না নিলে আর কেউ না কেউ করে নেবে। এই ভয়টা থেকেই যায়। ফলত আমরা বারবার শোষণের শিকার হই।”
‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ বিজয়ী হওয়ার পর অভিজিৎ নিজের একাধিক গান প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাকও করেন তিনি। তবে এত কিছুর পরেও বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিতে পারেননি। অন্য দিকে, একই পথের যাত্রী হয়েও অরিজিতের যাত্রাপথ ছিল একেবারেই ভিন্ন। ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে জয় তাঁর ঝুলিতে আসেনি। তবুও ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা আর সাফল্যের জোরে তিনি পৌঁছে যান সঙ্গীতজগতের শীর্ষে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি প্লেব্যাক গান থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন অরিজিৎ। শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তায় তিনি দীর্ঘদিনের ভালবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি আর নতুন কোনও প্লেব্যাক প্রজেক্ট গ্রহণ করবেন না।
