বলিউডের ‘রোমান্টিক বয়’ থেকে শুরু করে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হয়ে ওঠার সফরে আমির খান সবসময়ই ছকভাঙা। পর্দায় হোক বা বাস্তব জীবনে— তিনি যা-ই করেন, তা নিয়ে চর্চা হতে বাধ্য। আর এবার তো একেবারে বিয়ের সানাই! সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃতীয়বারের জন্য ছাদনাতলায় বসলেন ৬১ বছর বয়সী আমির খান। পাত্রী? তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা এবং লিভ-ইন পার্টনার গৌরী স্প্র্যাট। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিবেশে চার হাত এক হতেই নেটপাড়ায় শুভেচ্ছার বন্যা।

কিন্তু এই বিয়ের খবরের মাঝেই সিনেপ্রেমীরা খুঁজে পেয়েছেন এক অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর এবং অতিন্দ্রীয় সমাপতন! প্রশ্ন উঠছে— ‘গৌরী’ নামটাই কি তবে আমির খানের জীবনের আসল ‘লাকি চার্ম’?

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। সালটা ২০০১। আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘লগান’ ছবিতে ভুবনরূপী আমিরের ছায়াসঙ্গী, তাঁর পরম শুভাকাঙ্ক্ষী প্রেমিকার নাম কী ছিল মনে আছে? হ্যাঁ, ‘গৌরী’ (পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন গ্রেসি সিং)। তিন বছরের পাহাড়প্রমাণ অমানবিক করের করাল গ্রাস থেকে গ্রামকে বাঁচাতে, ক্রিকেট নামের এক অজানা খেলায় ইংরেজদের হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করার সেই কঠিন লড়াইয়ে ভুবনের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিল এই গৌরীই। প্রতিকূলতা যতই আসুক, ‘গৌরী’ পাশে থাকলে ভুবন তথা আমিরকে হারানো অসম্ভব— রূপোলি পর্দা আমাদের সেটাই দেখিয়েছিল। 

এবার রিল লাইফ থেকে সোজা চলে আসা যাক রিয়েল লাইফে। ২০১৮ থেকে ২০২২— সময়টা আমির খানের কেরিয়ারের জন্য মোটেও ভাল ছিল না। ‘ঠগস অফ হিন্দোস্তান’ থেকে শুরু করে বহু প্রতীক্ষিত ‘লাল সিং চড্ডা’— পর পর দুটি মেগা-বাজেট ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফ্লপের ধাক্কা আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে আমির যখন খানিকটা কোণঠাসা, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে এন্ট্রি নেন বাস্তবে এই ‘গৌরী’। শুরু হয় তাঁদের প্রেম এবং লিভ-ইন।

আর ঠিক এর পরেই ঘটে সেই চেনা ম্যাজিক! সব অন্ধকার কেটে গিয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে  মুক্তি পাওয়া আমিরের ‘সিতারে জমিন পর’ বক্স অফিসে শুধু সুপারহিটই হলো না, আমিরকে ফিরিয়ে দিল তাঁর হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন। পর্দার ভুবনের মতো বাস্তবের আমিরও যেন খরা কাটিয়ে ম্যাচ জিতে গেলেন!

সিনেমার রূপকথা আর বাস্তবের এই টাইমলাইন হুবহু মিলে যাওয়া দেখে আজ কেউ রসিকতা করে হয়তো বলতেই পারেন, “লগানের ভুবনই হোক বা বাস্তবের আমির— গৌরী পাশে থাকলে ওঁর ভাগ্য ফিরতে বাধ্য!” কেরিয়ারের চরম দুঃসময়ে পাশে থেকে আমিরের জীবনে নতুন ‘সিতারে’ বা তারা ফুটিয়ে তোলার ক্রেডিট অনেকেই দিতে চাইছেন এই নতুন কনেকে।

অবশ্য যুক্তিবাদীরা বলবেন, কঠোর পরিশ্রম আর ভাল চিত্রনাট্যের জোরেই আমির কামব্যাক করেছেন, এর পেছনে কোনও নামের জাদু নেই। কিন্তু মনের কোনো এক কোণে ‘লগান’-এর সেই চেনা সুর আর বাস্তবের এই হাত ধরাধরি কি কোনও গভীর ঈঙ্গিত দেয়? ‘গৌরী’ নামটা আমিরের জীবনে ঠিক কতটা সৌভাগ্য বয়ে এনেছে, কিংবা এই নাম বিশ্বাসের গভীরতা কতখানি— সেই হিসেব মেলানোর ভার না হয় পাঠকদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হলো।

তা, আপনার কী মনে হয়?