বলিউডের অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি আমির খান ও পরিচালক রাজকুমার হিরানির দাদাসাহেব ফালকে বায়োপিক। তবে আপাতত, রাজকুমার হিরানির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই ছবি কিছুটা পিছোল। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, যে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, তা এখন শুরু হবে মার্চ ২০২৬ নাগাদ। দেরির কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটাই শব্দ, চিত্রনাট্য! 

 

২০২৫ সালেই প্রথম খবর প্রকাশ্যে আসে যে আমির-হিরানি জুটি নতুন বছরের শুরুতেই শুটিং ফ্লোরে যাবে। কিন্তু এইমুহূর্তে খবর, গল্পের খসড়া নিয়েই এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন নির্মাতারা। ছবি ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, “হিরানি ও আমির দু’জনেই চান, ছবিটি যেন ইতিহাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে থেকেও আবেগের দিক থেকে সমসাময়িক হয়। হাস্যরস আর আন্তরিকতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি করতেই ফের ঘষামাজা হচ্ছে চিত্রনাট্য। ফালকের চরিত্র যেন তাঁর প্রকৃত মর্যাদা ও প্রভাব নিয়ে পর্দায় উঠে আসে, এটাই তাঁদের লক্ষ্য।” সেই সূত্র আরও জানাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়ে যাবে। সব ঠিকঠাক থাকলে, মার্চের শেষের দিকেই ছবির শুটিং শুরু হবে।

 

 

আমির খান ও রাজকুমার হিরানির রিইউনিয়ন এমনিতেই দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। থ্রি ইডিয়টস ও পিকে-র মতো আইকনিক ছবির পর এই জুটি ফিরছে এমন এক চরিত্রকে নিয়ে, যিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের স্তম্ভ - দাদাসাহেব ফালকে, যাঁকে বলা হয় ‘ফাদার অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা’। ১৯১৩ সালে নির্মিত তাঁর ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র’ ছিল ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ফিচার ফিল্ম। সেই পথচলার গল্প বড় পর্দায় তুলে ধরা নিঃসন্দেহে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

 

 

প্রামাণ্যতা বজায় রাখতে কোনও খামতি রাখতে চান না নির্মাতারা। জানা যাচ্ছে, লস অ্যাঞ্জেলসের একাধিক এফএক্স স্টুডিও ইতিমধ্যেই এআই–চালিত ভিজ্যুয়াল রেফারেন্স তৈরি করেছে, যাতে সেই সময়কালকে আরও নিখুঁতভাবে পর্দায় পুনর্নির্মাণ করা যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ চলছে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে। লেখক দলে রয়েছেন স্বয়ং রাজকুমার হিরানি ছাড়াও অভিজাত জোশী, হিন্দুকুশ ভরদ্বাজ ও আবিষ্কার ভরদ্বাজ।

 

এর মাঝেই অন্য এক কারণে শিরোনামে উঠে এসেছেন আমির–হিরানি। শোনা যাচ্ছে, থ্রি ইডিয়টস-এর পুরো কাস্টকে নিয়ে সিক্যুয়েলের পরিকল্পনাও নাকি ভাবনাচিন্তায় রয়েছে। এ বিষয়ে আমির খানের মন্তব্য, “ওই ছবিটা করতে আমরা অসম্ভব মজা পেয়েছিলাম। র্যাছঞ্চো আমার কেরিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র। আজও মানুষ ওটার কথা বলে। আমি অবশ্যই সিক্যুয়েল করতে চাই, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ আমাকে প্রস্তাব দেয়নি।”

সব মিলিয়ে, দেরি হলেও প্রত্যাশা একটাই, দাদাসাহেব ফালকের গল্প যেন পর্দায় উঠে আসে তাঁর প্রাপ্য গাম্ভীর্য, আবেগ আর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে।