পাবলোর নির্দেশনায় আসছে সম্পূর্ণ এক অন্যধারার ছবি “রঞ্জন আসছে”। সম্পর্কের জটিলতা, লেখকের কল্পনা আর সামাজিক প্রতিবাদের এক অদ্ভুত মিশেল এই ছবি।পরিচালক পাবলো-র আসন্ন বাংলা ছবি ‘রঞ্জন আসছে’ নিছক একটি সিনেমা নয়, এ যেন সময়ের আয়নায় ধরা এক তীক্ষ্ণ সামাজিক দলিল। আজকের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার ভিতরে দাঁড়িয়ে তৈরি এই আর্ট-হাউস কাজ ইতিমধ্যেই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে লেখক জয়। প্রকাশিকা নয়নতারার চাপে নিজের সেরা লেখা তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে জয় কল্পনায় গড়ে তোলে ‘রেবতী’—এক শান্ত, ধার্মিক, অনুচ্চাকাঙ্ক্ষী নারীর চরিত্র, যার ছায়া পড়ে তার স্ত্রী মন্দাক্রান্তার ওপর। কিন্তু বাস্তবের মন্দাক্রান্তা একেবারেই অন্যরকম। তার ভেতরে জন্ম নেয় ‘মায়া’, এক প্রতিবাদী সত্তা, যে অন্যায়ের সামনে মাথা নত করতে নারাজ।এই দ্বৈত সত্তার সংঘাত যখন চরমে পৌঁছোয়, তখনই আবির্ভাব নিশীথের। আর তার উপস্থিতিতেই জন্ম নেয় ‘রঞ্জন’, যে কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং জাগরণের প্রতীক।

পরিচালক পাবলো জানাচ্ছেন, ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই ছবির চিত্রনাট্য ২০২৫-এর শেষে চূড়ান্ত রূপ পায়। বোলপুরে ছবির সম্পূর্ণ শুটিং শেষ হয়েছে, আর এই দীর্ঘ যাত্রায় কাস্ট ও ক্রু-র একনিষ্ঠ পরিশ্রম ছিল ছবির মেরুদণ্ড। প্রথমে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। অভিনয়ে রয়েছেন সত্যকাম আনন্দ (জয়), মৌ (মন্দাক্রান্তা), যুধাজিৎ সরকার (নিশীথ), শ্রীতমা দে (নয়নতারা), দীপক হালদার ও শুভঙ্কর ঘটক।
অভিনেতা যুধাজিৎ সরকারের কথায়, “এই ছবি সেই কথাগুলো বলে, যেগুলো আমরা বলতে ভয় পাই।” শ্রীতমা দে-র মতে, এটি আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি আর আজকের দিনে “রঞ্জন কে”, তা জানা জরুরি। দীপক হালদার মনে করিয়ে দেন, যখন প্রশ্ন করাই ভয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন এই ছবি সাহস জোগায়।
সত্যকাম আনন্দের কাছে এটি স্বপ্নপূরণের সমান, যেখানে ভাষার সীমানা পেরিয়ে তিনি চরিত্রে প্রাণ দিয়েছেন। আর মৌ-এর ভাষায়, “রঞ্জন কোনও মানুষ নয়। এ এক অনুভূতি, এক বিপ্লব, এক চিৎকার।”
‘রঞ্জন আসছে’ তাই শুধু সিনেমা নয়। এ এক সময়ের মুখ, যেখানে প্রতিবাদই হয়ে ওঠে পরিচয়।















