নিজস্ব সংবাদদাতা: বাচিক, নৃত্য, ও কাব্য মিলিয়েই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছোটগল্প অনুসারে পুনঃ রচিত কাব্যগাথা৷ নাট্যরূপ দিলেন ঝাড়গ্রামের এলোকেশি বালিকা বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষিকা দেবলীনা দাশগুপ্ত। অভিষেক রায়ের ভাবনা ও বিন্যাসকে কথায় রূপ দিলেন তিনি। মেঘমল্লার-এর সেই পাঠে এবং অভিনয়ে অভিষেক রায়, প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য, স্নেহা ঘোষ এবং সৌভিক শাসমল এবং নৃত্যাংশে নৃত্যোদয় ক্রিয়েটরস অফ ক্রিয়েটিভিটির সদস্যরা। বিভূতিভূষণের এই কাব্যে ধরা পড়েছে দেবী সরস্বতীর বিশেষ রূপ। এই কাব্যেও মূল আধার দেবী সরস্বতী। সেই ভূমিকায় ওডিসি নৃত্যশিল্পী সুলগ্না ভট্টাচার্য। মূলত নাটক, কাব্য এবং নৃত্য মিলিয়েই এই "আষাঢ়ের মেঘমল্লার"।
আষাঢ়ী পূর্ণিমায় মেঘমল্লার-এর সুরে মর্ত্যে নেমে আসেন দেবী সরস্বতী, গুনাঢ্য প্রদ্যুম্নের সরলতা ও মেঘমল্লার-এ সিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নিয়ে দেবীকে করেন বন্দি। দেবী বলেছিলেন, "তাঁকে পাওয়া নির্গুণের কাজ নয়, সে নামে গুণাঢ্য হলেও কার্যত তাঁর এমন কোনও কলাতেই নিপুণতা নেই যে তাঁকে পেতে পারে, অনেক জীবন ধরে সাধনার প্রয়োজন।" তবু গুরুপ্রদত্ত মন্ত্রাভিচার ও প্রদ্যুম্নের কলাবিদ্যার শক্তিতে শৃঙ্খলে বাধা পড়লেন সরস্বতী। তারপর তিনি মুক্তি পাবেন কী করে? দেবীর বন্দি হওয়া ও মুক্তির মাঝে বাকি চরিত্রদের নিজস্ব সমীকরণে ঘোরাফেরা করতে থাকে গল্পের ঘটনা পরম্পরা। দেবী সরস্বতী না থাকলে জগত সংসারে শিক্ষা যে মিথ্যে হয়ে যাবে? তাই দেবীর মুক্তি হবে কোন পথে তা হয়ে ওঠে এই কাব্যরূপে উপজীব্য। গুনাঢ্য প্রদ্যুম্নের উত্তরণ, দেবীর মুক্তি-সহ একাধিক প্রশ্নের উত্তর ছিল ১৪ ই জুনে, জ্ঞান মঞ্চে।
নৃত্য নির্মিতিতে -
প্রদ্যুম্ন : সাগর ব্যানার্জি
গুনাঢ্য: বিধান রায় চৌধুরী
দেবী সরস্বতী : সুলগ্না ভট্টাচার্য
সুনন্দা : সৌমি বড়ুয়া
পূর্ণবর্ধন: তথাগত দে
শব্দপ্রক্ষেপণে হাসি পাঞ্চাল এবং আলোক প্রক্ষেপণে নিত্য নস্কর। সমস্ত কাব্য নৃত্যগাথা-টির নৃত্য পরিচালনায় বিধান রায় চৌধুরী। সমগ্র ভাবনা ও নির্মাণে রয়েছেন আয়ুধ নিউটাউন এর কর্ণধার অভিষেক রায়।
শিক্ষা, সাধনা, মুক্তি—তিনের প্রতীক হয়ে এই কাব্যনাট্য যেন এক কল্পলোক থেকে নামা বার্তা। দেবীর বন্দিত্ব ও মুক্তির প্রতীকের ভেতর দিয়ে দর্শককে পৌঁছে দেওয়া হল এক চেতনার যাত্রায়—যেখানে শিল্পই উপাসনা, এবং উপাসনাই মুক্তি।
















