আজকাল ওয়েবডেস্ক: তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন স্বয়ং মমতা ব্যানার্জি। বেলেঘাটা আসনের প্রার্থী করা হয়েছে কুণাল ঘোষ। তাঁকে দেখা গেল অন্যরূপে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যালট বক্সে থাকবেই। অন্য দলের প্রতি যে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখানোই যা প্রমাণ করলেন কুণাল। বেলেঘাটা অঞ্চলে সিপিএম প্রার্থীর পোস্টারের উপর তাঁর পোস্টার মারা দেখে বকা দিলেন দলীয় কর্মীদের। এমনকি তিনি বললেন, “দরকারে সিপিএমের পোস্টার এনে আমাদের ছেলেরা লাগিয়ে দেবে।”

শুক্রবার একটি ফোনে কুণাল অভিযোগ পেয়েছিলেন যে বেলেঘাটা অঞ্চলে সিপিএমের পোস্টারের উপর তাঁর পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়েই এদিন সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসেন কুণাল। বিষয়টি চোখে পড়তেই রেগে যান তিনি। সঙ্গে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যাঁর পোস্টার তাঁর থাকবে। তার উপরে কোনও পোস্টার পরবে না।” কে এই পোস্টার মেরেছেন তাঁরও খোঁজ করেন কুণাল। তিনি বলেন, “সিপিএমের পোস্টার রয়েছে তার উপর কেন আমার পাড়ায় আমার পোস্টার সিপিএমের পোস্টারের উপর পরবে। এসব ছ্যাঁছড়ামি করি না। সিপিএম জমানায় সিপিএম আমাদেরগুলো ভাঙতো। আমরা এই অসভ্যতা করব না।”

সব পোস্টার খোলার নির্দেশ দিয়ে কুণাল বলেন, “দরকার হলে সিপিএমের পোস্টার নিয়ে এসে আমাদের ছেলেরা সেই পোস্টার লাগিয়ে দেবে। কেন অভিযোগ শুনতে হবে। আমাদের জিততে হলে সিপিএমের পোস্টারের উপর পোস্টার লাগাতে হবে? এতটা খারাপ দিন আসেনি।” এরপরে নিজের হাতেই নিজের ছবি সম্বলিত পোস্টার ছিঁড়ে দেন কুণাল। 

https://www.facebook.com/reel/1344868597500320

গোটা ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন কুণাল। তিনি লিখেছেন, “তৃণমূলের কিছু অল্পবয়সী কর্মী প্রচারে অতি উৎসাহে সিপিএমের পোস্টারের উপর আমার পোস্টার লাগায়। ( যেটা বিজেপি ৩৪, ৩৫-এ করছে আমার পোস্টারে)। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আমি যাই। এসব আমি পছন্দ করি না। নিজের হাতে নিজের পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছি। যার যা পোস্টার, সবাই লাগাবে। তৃণমূল কর্মীদের বলে দিয়েছি সিপিএম জমানায় ওরা এই এলাকাতেই এসব করলেও আমরা করব না। অন্য দলও এই সৌজন্য বজায় রাখুক।”

প্রসঙ্গত, গত সোমবারই মনোনয়ন পেশ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল। দীর্ঘদিন ধরে বেলেঘাটা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা পরেশ পাল। এবারও তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা ছিল তৃণমূলের অন্দরে। শেষ পর্যন্ত কলকাতার ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে লেখক তথা সাংবাদিক কুণালকে।