আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামীকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতায় পথ চলা শুরু করছে নতুন বিজেপি সরকার। আর এই রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিলোত্তমা এখন উৎসবের মেজাজে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকাল ৮টা ৫ মিনিটে দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বি-৭৭৭ বিমানে চড়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি চলে যাবেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, যেখানে সকাল ১১টা নাগাদ মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যে কলকাতায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

তবে কেবল প্রধানমন্ত্রীই নন, ভিন রাজ্যের একঝাঁক মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আগামীকাল কলকাতায় চাঁদের হাট বসাতে চলেছেন। তাঁদের আগমনের সময়সূচিও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দিল্লির বিশেষ বিমানে চড়ে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে কলকাতায় পা রাখবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। একই সময়ে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের।

অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে সকাল ৮টায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, ৯টা ৫০ মিনিটে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং ১০টা ৪০ মিনিটে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং কলকাতায় পৌঁছাবেন। দুপুরের দিকে ১টা ২০ মিনিটে আসবেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। বিকেলের পর থেকে অতিথিদের আনাগোনা আরও বাড়বে— ৪টা ২০ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু, ৫টা ৩০ মিনিটে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী এবং সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর আসার কথা রয়েছে। সবশেষে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে পৌঁছাবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি হাজির থাকবেন বিভিন্ন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রীরাও। ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা রাত ৮টা ২৫ মিনিটে এবং মধ্যপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেবদা সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে এসে পৌঁছাবেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকও সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে উপস্থিত থাকবেন।

বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও প্রধানমন্ত্রীর সূচি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু পরিবর্তন হতে পারে, তবে তাঁর আসা প্রায় নিশ্চিত। ভিন রাজ্যের এতজন হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতিতে ব্রিগেডের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কেবল বাংলার জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও এক বড় বার্তা দিতে চলেছে। সব মিলিয়ে আগামীকাল এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পশ্চিমবঙ্গ।