আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় নির্বাচনের প্রাক্কালে আম আদমি পার্টি (আপ)-র জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দখল এবং লক্ষ লক্ষ ভোট কাটার’ অভিযোগ তুলেছেন কেজরি।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে এই অভিযোগ করেছেন আপ নেতা। পোস্টে কেজরিওয়াল লিখেছেন, “সমস্ত প্রতিষ্ঠান দখল করে এবং লক্ষ লক্ষ ভোট কেটে নেওয়ার পরেও যদি মোদি পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে হেরে যান, তাহলে কী হবে?”
গত ৮ এপ্রিল তৃণমূলের নাম করেই একটি টুইট করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে লেখা হয়, “তৃণমূল কংগ্রেসকে কমিশনের সোজা কথা, এবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবে ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত, ভীতি-মুক্ত, প্রলোভন-মুক্ত, ছাপ্পা-মুক্ত, বুথ জ্যামিং-মুক্ত, সোর্স জ্যামিং-মুক্ত।”
এই ঘটনায় তৃণমূল পাশে পেয়েছিল আপ-কে। সেই সময় কেজরিওয়াল এক্স-এ লিখেছিলেন, “এখন এটা বলাই বাহুল্য যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশ নিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এটা এখন স্পষ্ট এবং অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্ততপক্ষে, এমন ভাষায় টুইট করে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম জনসমক্ষে নষ্ট করবেন না।”
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের বিধানসভার নির্বাচন ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলপ্রকাশ ৪ মে। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বাদানুবাদ লেগেই আছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে ভোটার নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্যে তাদের প্রচার অভিযান জোরদার করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, দলটি ক্ষমতায় এলে ছ’মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে। তিনি অনুপ্রবেশ ও গবাদি পশু চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
















