আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বাংলার সব ভোটারদের বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম ছিল তাঁদের নাম বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে। এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেও বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে কমিশন। কেন এই সমস্যা উত্তর নেই কমিশনের কাছে। এক্স হ্যান্ডলে অনেকে পোস্ট করে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এরপরেই কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তারা লিখেছে, অভিষেক ব্যানার্জির নাম ‘বিবেচনাধীন’, শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাদ! এক্স-এ তারা লিখেছে, “ভ্যানিশ কমিশন এবং বিজেপি বাংলার পুরো ভোটার তালিকাকে সন্দেহভাজনে পরিণত করেছে।”
তৃণমূল লিখেছে, “আপনি নিজেও একবার চেক করে দেখুন। নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে যান(https://electoralsearch.eci.gov.in/) । আপনার এপিক নম্বরটি দিন। আপনার SIR স্ট্যাটাস দেখে নিন। আপনাকে হয়তো শুনানির জন্য ডাকা হয়নি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হয়তো আপনার নামটা ছিল, আপনি হয়তো ম্যাপড ভোটার কিংবা আপনার কেস সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে মিটে গেছে—তা সত্ত্বেও এখন আপনি নিজেকে UNDER ADJUDICATION হিসেবে দেখতে পাবেন। পুরো বাংলাকে কমিশনের পোর্টালে বিবেচনাধীন ঘোষণা করে দিয়েছে। বাংলার প্রতিটি ভোটার এখন “UNDER ADJUDICATION”। ভ্যানিশ কমিশন এবং বিজেপি বাংলার পুরো ভোটার তালিকাকে সন্দেহভাজনে পরিণত করেছে। ওরা বাংলার প্রতিটি ভোটারকে ‘প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী’ দাগিয়ে দিতে চাইছে। ওরা যখন বলেছিল “বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই”, তখন ওরা ঠিক এটাই বুঝিয়েছিল।”
প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “কী হচ্ছে এটা নির্বাচন কমিশন? এটা কি কোনও তামাশা? ৮০ নং বিধানসভার, কালিগঞ্জ বুথ ১৮০-এর ভোটার (ক্রমিক ৬৫), যিনি ২৮/২ চূড়ান্ত তালিকায় ছিলেন, এখন তাঁর নাম বিচারাধীন দেখাচ্ছে! ভোটার জালিয়াতির জন্য নির্বাচন কমিশনার দায়ী এবং তাঁর অবিলম্বে বিচার হওয়া উচিত।”
সোমবার রাত ৯টায় প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কথা ছিল কমিশনের। কিন্তু নির্ধারিত সময় তালিকা প্রকাশ করেনি কমিশন। তালিকা বেরতে বেরতে প্রায় মধ্যরাত। এরপর মঙ্গলবার রাতে ফের কমিশনের সাইটে সমস্যা। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের যুবনেতা সুদীপ রাহা বলেন, “আজ সকালে কমিশনের বিজ্ঞুপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প দেখে বোঝা গিয়েছিল কারা কমিশন চালাচ্ছে। রাতে এই পরিস্থিতি দেখে সেই বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হল।”
সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচন কমিশন সকলকে বিবেচনাধীন করে দিচ্ছে এতে আশ্চর্যের কী আছে। কেরলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির লোগো দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে আক্ষরিক অর্থে নির্যাতন কমিশনে পরিণত করছে। ভারতের নাগরিকদের উপর ভরসা নেই বিজেপির। বাংলার নাগরিকদের উপর এসআইআরের নামে যা খুশি করছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যে বিশেষ অংশের মানুষকে নিশানা করা হয়েছে। শয়ে শয়ে জীবিত মানুষের নামে ফর্ম ৭ জমা দিয়েছে বিজেপি। ভোটার লিস্ট সংশোধনের নামে সারা বছর ধরে তৎপরতা দেখায়নি কমিশন। এসআইআরের সঙ্গে এনআরসি-র সঙ্গে। এর ফলে অনেক হিন্দু বাদ পড়ে গিয়েছে। এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখাতে হয়েছে। এর ফলে খিচুড়ি আরও পাকিয়েছে। সব মিলিয়ে ঘেঁটে ঘ। তাই গোটা ভোটার লিস্ট আন্ডার অ্যাজুডিকেশন।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সেই সকল ভোটারদের নাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। সোমবার ২৮ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তবে কত সংখ্যক ভোটারের নাম প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। ৮০ হাজার ৬৮১-এর মধ্যে ৪০ হাজার বুথের তালিকা প্রকাশ হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে মোট কতজন বাদ গিয়েছে তা জানানো হয়নি।
