রিয়া পাত্র: একুশে জুলাই। শহিদ তর্পণ। একইদিনে দুই শিবির, দুটি ভিন্ন জায়গায় সমাবেশের আয়োজন করেছিল। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জি, সঙ্গে জনাকয়েক বিধায়ক-সাংসদ। আর সামনে হাজার-হাজার কর্মী-সমর্থক। মমতা বললেন, যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন মঞ্চের সামনে, তাঁরাই তাঁর সোনার খনি। সভার প্রস্তুতি থেকে সভা, সর্বত্র সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু একুশের মঞ্চে, আরও জোট বেঁধে থাকার মাঝেই কি তাল কাটল? মমতা-কল্যাণের?
উল্লেখ্য, প্রায় বাইশ মিনিটের বক্তব্যে কল্যাণ এদিন স্লোগান দেন, ঋতব্রত শিবিরকে তীব্র কটাক্ষও করেন। কল্যাণের বক্তব্যের মাঝেই সভামঞ্চে হাজির হন মমতা-অভিষেক। সেই সময় নিজের কথা থামিয়ে, আহ্বান জানিয়ে, কল্যাণ নিজের বক্তব্যে শেষ করেন। তারপরেই বক্তব্য শেষ করে, তাঁকে কথা বলতে দেখা যায় খোদ মমতার সঙ্গে। খানিক কথোপকথন। কিন্তু তারপর, আচমকা মঞ্চে আর দেখা মেলেনি কল্যাণের। এমনকী মমতার বক্তব্যের জন্যও অপেক্ষা করেননি তিনি আর। বিড়লার সমানে তখন গুঞ্জন, তাহলে কি ফের কথা-কাটাকাটি? গুঞ্জন ছিল, মঞ্চে কে বক্তব্য রাখবেন, কতক্ষণ রাখবেন, তা নিয়েই নাকি কথাকাটাকাটি হয় তাঁদের।
তবে কল্যাণের মেজাজ হারানো, মুখের ওপর কথা বলা, বিবাদ নতুন নয়। সম্প্রতি অভিষেক ইস্যুতেও মেজাজ হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন শুরুর দিনেই কি ফের মেজাজ হারালেন? আসলে হল কী? কথাকাটাকাটিই মঞ্চ ত্যাগের কারণ? একপক্ষ জানায়, শরীর ভাল নেই কল্যাণের। উত্তর খুঁজতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করে কল্যাণ ব্যানার্জির সঙ্গে। তিনি কথাকাটাকাটির বিষয়টি একেবারেই আমল দিতে নারাজ। উলটে তিনি বলেন, 'আমার শরীর ভাল নেই। আমার জ্বর। কালও প্রায় ভোর-রাত পর্যন্ত আমি মঞ্চের কাছেই ছিলাম। শরীর ভাল ছিল না। ফলে আমি বক্তব্য শেষ করে, মঞ্চ থেকে নেমে যাই। বাড়ি চলে আসি।' যদিও কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর, জ্বর যেমন সত্যি, সত্যি বাদানুবাদের তথ্যও। তবে দ্বিতীয় তথ্যে সিলমোহর দিতে চাইছেন না কল্যাণ নিজে।
















