রিয়া পাত্রএকঘণ্টা বক্তব্যের পর, আচমকা মমতার মুখে তাঁর নাম। যদিও, তার আগে থেকেই, মঞ্চে উপস্থিতি ছিল লক্ষ করার  মতোই। নিজের বক্তব্যের একঘণ্টা আট মিনিটের মাথায় মমত্রা বললেন, 'রাজীব কুমার এসেছে, আমি ওর নামটা  বলতে ভুলে গিয়েছি। সরি।' 

রাজীব কুমার। গত কয়েকদিনে, বিশেষ করে কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই, জল্পনা ছিল, এবার কি তবে রাজীব কুমার, মানেকা গুরুস্বামীও হাত ছাড়বেন মমতার। তৃণমূল ভোটে হারার পর থেকে, রাজীবকে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কিছু বলতেও শোনা যায়নি প্রকাশ্যে। ফলে জল্পনা তীব্র হয়েছিল। জল্পনা ছিল, যেভাবে সুখেন্দু শেখর-সুস্মিতা দেব-প্রকাশচিক বরাইকের তিন আসনে ভোট হল, তাহলে কি কোয়েলের পর, আরও দু'জন ইস্তফা দেবেন? ফের ভোট হবে তিনের ফর্মূলায়?

এসবের জল্পনায় মঙ্গলেই জল ঢাললেন রাজীব, কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে উঠে। বসে রইলেন শেষ পর্যন্ত। বক্তব্যের শেষভাগে এসে, মমতা বললেন তাঁর নাম। রাজনৈতিক মহলের মত, রাজীবের উপস্থিতি, স্পষ্ট করল, তাঁর অবস্থান। 

 মমতা ব্যানার্জি রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন- ডেরেক ও' ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, নাদিমুল হক, দোলা সেন, প্রকাশ চিক বরাইক, মমতা ঠাকুর, সুস্মিতা দেব, সামিরুল ইসিলাম, সুখেন্দু শেখর রায়, বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমার, মানেকা গুরুস্বামীকে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের শাসক দল রাজ্যসভার প্রার্থী নামে বিরাট চমক দেয়। জল্পনার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিল, রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন, জয়ীও হন। কিন্তু তারপরেই তৃণমূলের হার, পরপর ইস্তফা। মমতা ব্যানার্জির হাত ছাড়েন প্রকাশ-সুস্মিতা-সুখেন্দু। কোয়েলও ছাড়েন মমতার হাত। তারপরেই চর্চা চলছিল রাজীবের নাম নিয়ে।