আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এদিন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুলিশ ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন কমিশনের আধিকারিকরা। যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আইজি এবং বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মূলত ভোটের সময় বুথের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়েই কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, কোনো ভোটারকে ভয় দেখালে বা বাধা দিলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

&t=1s

নজরদারির কাজ জোরদার করতে আজ থেকেই রাজ্যে আসতে শুরু করেছেন কয়েক’শ পর্যবেক্ষক। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার, ৮৪ জন পুলিশ অবজারভার এবং ১০০ জন হিসাব সংক্রান্ত অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আজ কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আজ থেকেই একটি বিশেষ ‘কমপ্লেন সেল’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেলে কমিশনের নিজস্ব ৯ জন অফিসার ও মাইক্রো অবজারভার কাজ করছেন, যাঁদের সাথে '১৯৫০' হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আগামীতে নবান্ন থেকে আরও ৪ জন অফিসার নিয়ে একটি পৃথক ‘অবজার্ভার সেল’ গঠন করা হবে, যার জন্য আলাদা ইমেইল ও হেল্পলাইন নম্বর থাকবে।

ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অনুপ্রবেশ রুখতেও বিশেষ সাফল্য মিলেছে বলে জানিয়েছে কমিশন। এখনো পর্যন্ত ভোটার তালিকার প্রায় ৬০ লাখ বিষয়ের মধ্যে ২৩ লাখ ৩০ হাজার ভোটারের নামের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া FRRO দপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় ১৭ জন বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভোটের আগে প্রশাসন ও পুলিশের এই সমন্বিত প্রয়াস রাজ্যে একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।