আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাম শিবির। হুগলির বিভিন্ন কেন্দ্রে এবার যেমন নতুন মুখের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে, তেমনই অভিজ্ঞদের ওপরও আস্থা রেখেছে দল।
উত্তরপাড়া কেন্দ্রটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছিল। মীনাক্ষী মুখার্জি এখানে প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছিল বিস্তর। কিন্তু সোমবার সব জল্পনায় জল ঢেলে এই কেন্দ্র থেকে মীনাক্ষী মুখার্জির নাম ঘোষণা করে বামফ্রন্ট। নাম ঘোষণার পরেই উত্তরপাড়ার অলিতে-গলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন।
শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বামেদের বাজি ছাত্র রাজনীতির পরিচিত মুখ নবনীতা চক্রবর্তী। বর্তমানে জেলার যুব আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী নবনীতা খাস শ্রীরামপুরেরই মেয়ে। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে তিনবারের জয়ী বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই যে খুব একটা সহজ নয়, তা মেনে নিচ্ছেন দলের অন্দরের অনেকেই। তবে লড়াকু মেজাজের নবনীতা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জানাচ্ছেন, লড়াই কঠিন জেনেও তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা সুনীল সাহা। বামেদের সুসময় এবং দুঃসময়- উভয় পরিস্থিতির সাক্ষী সুনীলবাবু মনে করেন, সাধারণ মানুষ ফের বামফ্রন্টের ওপরেই ভরসা রাখবেন।
এই কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী করেছে স্কুল শিক্ষক মনীশ পাণ্ডাকে। তাঁর মতে, শুধু জয়-পরাজয় নয়, বামেদের বিকল্প ভাবনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাই বড় লক্ষ্য। তবে ব্যক্তিগত জয়ের চেয়ে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই বামেদের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।
বলাগড় কেন্দ্রেও এক স্কুল শিক্ষককে মুখ করেছে বামেরা, প্রার্থী হয়েছেন বিকাশ গোলদার। অন্যদিকে, পাণ্ডুয়া কেন্দ্রে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে দলের পুরনো ঘোড়া তথা প্রাক্তন বিধায়ক আমজাদ হোসেনের ওপরই ফের ভরসা রেখেছে আলিমুদ্দিন।
সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা সামনে আসতেই লাল ঝাণ্ডা হাতে পথে নেমে পড়েছেন বাম কর্মীরা। এখন দেখার, এই প্রচারের উত্তাপ ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়।
