আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রতিবাদের ঢেউ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। অবিলম্বে প্রার্থীর গ্রেপ্তারি ও মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রবিবার রাতে এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং। ছিলেন ধুপগুড়ি গ্রামীণ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মলয় কুমার রায়-সহ একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং কর্মী ও সমর্থকরা।
ভাইরাল ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে বিজেপির একটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখার সময় মহাত্মা গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়। আর এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, জাতির জনককে অপমান করে বিজেপি তাদের প্রকৃত মানসিকতা প্রকাশ করেছে।
প্রসঙ্গত, ধুপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায় এর আগে ধুপগুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। এই অভিযোগেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নরেশ রায়ের প্রার্থীপদ বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবী তোলা হয়েছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ওইদিন রাতে ধূপগুড়ির নেতাজি সুভাষ রোডের গ্রামীণ কার্যালয় থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। কর্মী-সমর্থকদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং মহাত্মা গান্ধীর ছবি। মিছিলটি শহর পরিক্রমা করে ধূপগুড়ি চৌপথিতে এসে পৌঁছলে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। সেখানে এশিয়ান হাইওয়ের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়ে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন, "জাতির জনককে যিনি দেশদ্রোহী বলেন, তিনি কোনওভাবেই সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হতে পারেন না। এটা গোটা দেশের লজ্জা। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করতে হবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে।"
এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পিকেটিং চালু রয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে ধূপগুড়িতে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ধুপগুড়ি বিধানসভার কনভেনর চন্দন দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়ে দেন ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। আদতে কী রয়েছে দলীয়ভাবে আলোচনার পরেই সেটা পরিষ্কার হবে। আপাতত এ বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করছি না।















