আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা মিটতেই বড়সড় জয়ের দাবি করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিত সরকার এই নির্বাচনকে 'অভূতপূর্ব' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এতদিন যে ধরনের ভোট দেখে এসেছেন, এবারের ছবিটা তার থেকে অনেকটাই আলাদা। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়াকে হাতিয়ার করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই।

দেবজিত বাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রথম বিজেপি সরকার তথা প্রকৃত বাঙালি সরকার তৈরি হতে চলেছে।" তাঁর মতে, ২০১১ সালের পরিবর্তনের সময় মানুষ যে হারে (৮৪ শতাংশ) ভোট দিয়েছিলেন, এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গিয়েছে। ৯০ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলার চেষ্টা হলেও জনতা এবার রুখে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলে ভোট দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সততাকেও বিজেপি এদিন সাধুবাদ জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেবজিত সরকার কটাক্ষ করে বলেন, এই লড়াইটা কোনও  স্নায়ুযুদ্ধ নয়, বরং এটা ছিল পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনতার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির লড়াই।

অন্যদিকে, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা শিশির বাজোরিয়াও প্রথম দফার এই ভোট নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সকাল থেকেই যে শান্তিপূর্ণ মেজাজে ভোট শুরু হয়েছিল, তা ছিল অভাবনীয়। বিশেষ করে প্রথম দু-ঘণ্টায় ভোটের হার এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৩ শতাংশ, কোচবিহারে ৯২ শতাংশ এবং বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, মানুষ তৃণমূল সরকারকে প্রত্যাখ্যান করার জন্যই এভাবে বুথমুখী হয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন যে, এবারের ভোটে কারচুপির কোনও  জায়গা ছিল না। সব মিলিয়ে প্রথম দফার এই উচ্চ হার আগামী ৪ঠা মে রাজ্যে পদ্ম শিবিরের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করল বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির। দ্বিতীয় দফার ভোটের পরেই এই চিত্র আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব।