আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তায় বড়সড়ো ত্রুটি। বৃহস্পতিবার রাতে মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে 'আক্রান্ত' হলেন হুমায়ুন কবীর। বড় কোনও ঘটনা ঘটার আগেই হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা 'আক্রমণকারী'কে সরিয়ে নিয়ে যান। যদিও এই ঘটনায় হুমায়ুন কবীরের তরফ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
হুমায়ুন কবীরের নির্দেশের পর তাঁর দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় থানার পুলিশ ওই 'আক্রমণকারী'কে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার দু'টি বিধানসভা কেন্দ্র- নওদা এবং রেজিনগর- থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার রাতে নওদার গোঘাট ন'নম্বর চাঁদপুর এলাকায় একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার জন্য পৌঁছান হুমায়ুন। বক্তব্য শুরুর একেবারেই প্রথমে ঘটে যায় বিপত্তি। হুমায়ুন কবীর তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষারত জনগণকে সম্বোধন করে কিছু বলতে শুরু করতেই এক যুবক হঠাৎই লাফিয়ে স্টেজে উঠে পড়েন এবং হুমায়ুন কবীরকে পেটের কাছ থেকে চেপে ধরে টানাটানি করতে শুরু করেন।
হুমায়ুন কবীরের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ওই যুবককে জাপটে ধরেন এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে স্টেজের পেছনে চলে যান।
প্রসঙ্গত হুমায়ুন কবীর নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজ্যের দেওয়া নিরাপত্তারক্ষী পেয়ে এসেছেন। গত ৪ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক হুমায়ুনের জন্য ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ করেছে। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে ১৭ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রয়েছেন। সেখানে ২৪ ঘন্টা সেন্ট্রি ডিউটি করেন একজন জওয়ান। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে অফিসার সহ মোট ৫-৭ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সবসময় থাকেন। তবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার পর থেকে হুমায়ুন কবীরের জন্য বরাদ্দ রাজ্যের নিরাপত্তারক্ষীদের তুলে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সরকারের ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে একজন যুবক নিরাপত্তা বেষ্টনী এড়িয়ে হুমায়ুন কবীরের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাঁকে জাপটে ধরে টানাটানি করলেন তা নিয়ে এখন প্রশ্ন চারিদিকে।
সূত্রের খবর, গোটা ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই হুমায়ুনের নিরাপত্তার চাদর আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবার রাতে নওদার জনসভায় হুমায়ুন নিজের বক্তব্য শুরু করতেই বছর তিরিশের ওই যুবক হঠাৎই লাফিয়ে স্টেজের উপর উঠে পড়েন এবং হুমায়ুন কবীরকে জাপটে ধরে হিন্দিতে বলেন, 'আপকা বহুত বড়া ফ্যান হুঁ স্যার' (আমি আপনার খুব বড় ভক্ত)।
এই ঘটনায় 'অপ্রস্তুত' হয়ে পড়েন হুমায়ুন কবীর। তিনি নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের মঞ্চ থেকে নির্দেশ দেন, "ছেলেটি অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। তবে আমি ভীত নই। ও আবেগের বশে করেছে। সিকিউরিটিদের বলছি ওকে কিছু বলবেন না। আমি ওকে যা বুঝিয়ে বলার বলছি।"
গোটা ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন," স্থানীয় একটি ছেলে ঘটনা ঘটিয়েছে। কী উদ্দেশ্য করেছে বুঝতে পারছিনা। মঞ্চে যখন এই ঘটনাটি হয় তখন আমার জনসভা সমাজমাধ্যমের পাতায় লাইভ চলছিল। তাই সবাই দেখতে পেয়েছেন আমার সঙ্গে কী হয়েছে। তবে আমার শারীরিক কোনও ক্ষতি হয়নি। ঘটনার সময় আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছাড়াও স্থানীয় থানার পুলিশ এবং প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আশেপাশে উপস্থিত ছিল।"
হুমায়ুন বলেন," নতুন রাজনৈতিক দল এবং বাবরি মসজিদ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কিছু মানুষ যে আমার পেছনে লাগছে তা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। তবে এই ঘটনাকে নিয়ে আমি আতঙ্কিত বা ভীত নই। আমি শুক্রবার থেকে স্বাভাবিক ছন্দেই নির্বাচনী প্রচার চালাবো।"
হুমায়ুন বলেন," আমি জানতে পেরেছি গতকালকে আমার সঙ্গে যে ঘটনাটি হয়েছে তারপরই নয়ডা থেকে আমার সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে আধিকারিকরা গোটা ঘটনার বিস্তারিত খবর নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানরাও গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার থেকে সম্ভবত আমার নিরাপত্তায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে।"
















