মিল্টন সেন,হুগলি: গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে পারলেন না। ভোটার তালিকায় নাম নেই। ভোট দিতে পারলেন না অনেকেই। মন খারাপ জুটমিল শ্রমিক মহল্লার। হুগলি চাঁপদানী বিধানসভা মূলত জুটমিল এলাকা। প্রত্যেক নির্বাচনে সামিল থেকেছে এই শ্রমিক মহল্লা। এই নির্বাচনেই প্রথম, তাঁদের ভোটাধিকার নেই। একটা সময় যারা রুজি রুটির টানে গঙ্গা পারে চলে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দক্ষিণ ভারত থেকে অনেকেই। হুগলির চাঁপদানী এলাকায় রয়েছে একাধিক চটকল। সেখানেই রয়েছেন  তাঁরা, রয়েছে তাঁদের পরিবার।


আগে একাধিক নির্বাচনে তারা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার নির্বাচন তাদের কাছে অন্যরকম। কোথাও ছেলে ভোট দিতে পারলেও  মা বাবা পারলেন না। আবার বাবা ভোট দিয়েছেন অথচ ছেলের নাম নেই। এরকম বহু মানুষের নাম বাদ গেছে এসআইআর-এ। রাজ্যে ২৭ লক্ষ ডিলিটেড ভোটারের মধ্যে তারাও আছেন। যেখানে তারা থাকেন, যেখানে তাদের রুজিরুটি অথচ সেখানেই সরকার তৈরী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারলেন। মন খারাপ। 

 

এদিকে ভোট দিতে পারলেন না বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রমেশ বৈদ্য এবং তার পরিবার। ২০০৫ থেকে বিগত ২০ বছর ধরে অংশ গ্রহণ করেছেন সমস্ত ভোট প্রক্রিয়ায়। তাঁর ছেলে দ্বীপ বৈদ্য ১০০ শতাংশ বিশেষ ভাবে সক্ষম। তার কাছে রয়েছে ভোটের কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ইলেক্ট্রিক বিল, গ্যাসের বই সব কিছুই। তিনি ভারতীয় নাগরিক। এই বছরে দ্বীপেরও ভোট দেওয়ার কথা। কিন্তু হলো উল্টোটাই। স্বপরিবারে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত রইলেন। এদিন তার গলায় শোনা গেলো আক্ষেপ, ক্ষোভ অভিমান। বললেন, বৈধ নথিপত্র থাকা স্বত্তেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ট্রাইবুনাল পর্যন্ত গিয়েও সুরাহা মেলেনি।

 

এদিকে সকাল থেকেই তৃণমূলের একাধিক ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। চুঁচুড়ার ২৭, ২৮, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনসাতলা, মাঝেররাস্তা ৩৪৮, ৩৪৯, ৩৩২ বুথের ক্যাম্প অফিস করেছিল তৃণমূল। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি এসে দাঁড়ানোর পরেই তাদের ক্যাম্প থেকে উঠে যেতে বলে। এরপরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তোলে তৃণমূল। তৃণমূল কর্মীদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে। চেয়ার টেবিল, উল্টে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভোটার স্লিপ ছিড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তৃণমূলের দাবি ,তারা পোলিং স্টেশন থেকে ১০০ মিটার দূরে ক্যাম্প অফিস করেছিলো,তারপরেও তাদের ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। তোলাফটক থেকে উত্তর চন্দননগর যাওয়ার রাস্তায় একাধিক তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।

 

হুগলি জেলার ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে ১৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট বুথ সংখ্যা - ৫৫৮২, জেলায় মোট ভোট গ্রহণ কেন্দ্র - ৩১২৬, মহিলা পরিচালিত বুথ - ১০০০, মোট ভোট কর্মী - ২৪৪৭২, হুগলী জেলায় অতিরিক্ত বুথ - ৩৪৩ টা। মোট ভোটার - ৪৩৬১৩৯৩ জন, পুরুষ ভোটার - ২১৯৯০৭০ জন, মহিলা ভোটারের সংখ্যা - ২১৬২২৩৮ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার - ৮৫ জন। হুগলি গ্রামীন পুলিশ জেলায় কর্মরত ২৩৪ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি চন্দননগর কমিশনারেটে এলাকায় ৮৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

&t=26s